উত্তরকাশীর পর এবার কাশ্মীর, মেঘ ভাঙা বৃষ্টির হড়পা বান, বাড়ছে প্রচুর মৃত্যুর আশঙ্কা

জম্মু ও কাশ্মীরের কিস্তওয়ার জেলায় মেঘ ভাঙা বৃষ্টির ফলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। এর জেরে মাছাইল মাতা যাত্রা রুটের তাশোটি এলাকায় হড়পা বান বইছে। সরকারি সূত্রে পিটিআই জানিয়েছে, এই আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১২ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মেঘ ভাঙা বৃষ্টির ফলে তাশোটি এলাকায় একটি লঙ্গরখানা সম্পূর্ণভাবে ভেসে গেছে। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ জন মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই ঘটনার পর, খারাপ আবহাওয়া এবং জরুরি পরিস্থিতির কারণে মাছাইল মাতা মন্দিরের তীর্থযাত্রীদের আপাতত এই রুটে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কাশ্মীরের রাজৌরি এবং মেন্ধার থেকেও মেঘ ভাঙা বৃষ্টির খবর পাওয়া গেছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং প্রশাসনের তৎপরতা:
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং এই ঘটনার পর কিস্তওয়ারের ডেপুটি কমিশনার পঙ্কজ কুমার শর্মার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তিনি জানান যে, স্থানীয় বিধায়ক সুনীল কুমার শর্মার কাছ থেকে জরুরি বার্তা পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ডিসির সঙ্গে কথা বলেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী টুইটারে জানান, তাশোটি এলাকার মেঘ ভাঙা বৃষ্টির ফলে ব্যাপক প্রাণহানির সম্ভাবনা রয়েছে। প্রশাসন দ্রুত তৎপর হয়েছে এবং উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। রেড ক্রস দলও ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে কাজ শুরু করেছে।
ডিসি পঙ্কজ শর্মা জানান, “কিস্তওয়ারের তাশোটি এলাকায় হঠাৎ বন্যা দেখা দিয়েছে, যা মাছাইল মাতা যাত্রার সূচনাস্থল। উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে।”
#WATCH | J&K | A flash flood has occurred at the Chashoti area in Kishtwar, which is the starting point of the Machail Mata Yatra. Rescue Operations have been started. pic.twitter.com/dQbUBx46A9
— ANI (@ANI) August 14, 2025
ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা:
জম্মু ও কাশ্মীরের বিরোধী দলনেতা ও পদ্দার-নাগসেনির বিধায়ক সুনীল কুমার শর্মা বলেছেন যে, এখনো ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ জানা যায়নি, তবে ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, “মাছাইল মাতা মন্দিরে যাত্রার কারণে এই এলাকায় অনেক ভক্তের ভিড় ছিল। আমি লেফটেন্যান্ট গভর্নরের সঙ্গে কথা বলব এবং উদ্ধার অভিযানের জন্য এনডিআরএফ দলকে অনুরোধ করব।”
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২১ সালেও কিস্তওয়ারে মেঘ ভাঙা বৃষ্টির ঘটনা ঘটেছিল, যা ব্যাপক বিপর্যয় ডেকে এনেছিল। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধারকাজ চালিয়ে আটকে পড়া মানুষদের বাঁচানোই এখন প্রশাসনের প্রধান চ্যালেঞ্জ।