প্রতিরক্ষা ও DRDO-র গোপন তথ্য ফাঁস! পাক গুপ্তচর সন্দেহে ধৃত গেস্ট হাউসের ম্যানেজার

ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (DRDO)-এর গেস্ট হাউসের এক ম্যানেজারকে পাকিস্তানি গুপ্তচর সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাজস্থানের জয়সলমীরের চন্দন ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে অবস্থিত ওই গেস্ট হাউসের ম্যানেজার মহেন্দ্র প্রসাদ (৩২)-এর বিরুদ্ধে দেশের প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত গোপন তথ্য পাকিস্তানের গোয়েন্দাদের কাছে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। এই গ্রেপ্তারের পর প্রতিরক্ষা মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
রাজস্থান পুলিশের সিআইডি (নিরাপত্তা) জানিয়েছে, তারা বেশ কিছুদিন ধরেই মহেন্দ্রর গতিবিধির উপর নজর রাখছিল। গোয়েন্দারা জানতে পারেন যে মহেন্দ্র সোশ্যাল মিডিয়ায় অত্যন্ত সক্রিয় এবং নিয়মিত পাকিস্তানের গোয়েন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। এই তথ্যের ভিত্তিতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মহেন্দ্র প্রসাদের বাড়ি উত্তরাখণ্ডের আলমোড়ার পালিয়ুঁতে। তিনি গেস্ট হাউসে চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে কাজ করতেন।
রাজস্থান পুলিশের সিআইডি (নিরাপত্তা)-এর আইজি ড. বিষ্ণুকান্ত জানান, স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সর্বত্র কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দেশবিরোধী এবং নাশকতামূলক কার্যকলাপ রুখতে গোয়েন্দারা সতর্ক রয়েছেন। সেই সময়েই মহেন্দ্রর সম্পর্কে সন্দেহজনক তথ্য পাওয়া যায়। প্রাথমিক তদন্তের পরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মহেন্দ্রর বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো, চন্দন ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে যখন মিসাইল ও অন্যান্য অস্ত্রের পরীক্ষা নিরীক্ষা চলে, তখন DRDO-র বিজ্ঞানী এবং সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত থাকেন। মহেন্দ্র তাদের গতিবিধি, কোথায় যাচ্ছেন, কখন ফিরছেন এবং নিজেদের মধ্যে কী কথা বলছেন—সেইসব গোপন তথ্য নজরদারি করে পাকিস্তানের গোয়েন্দাদের কাছে পৌঁছে দিতেন।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মহেন্দ্র অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। তার মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং সেখান থেকে আরও তথ্য ও ফোন নম্বর উদ্ধার করার চেষ্টা চলছে। এই গ্রেপ্তার ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।