“কে আমার ছবি টি-শার্টে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে?”- নির্বাচন কমিশন বিরোধী টি শার্টে ছবি চটলেন মিন্টা দেবী

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে রাহুল গান্ধী ও অন্যান্য বিরোধী সাংসদদের প্রতিবাদে নতুন বিতর্ক যোগ হয়েছে। মঙ্গলবার প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ অন্যান্য বিরোধী সাংসদরা টি-শার্ট পরে প্রতিবাদ করেন, যে টি-শার্টে বিহারের এক ১২৪ বছর বয়সী ভোটারের ছবি ছিল। সেই ভোটারের নাম মিন্টা দেবী। কিন্তু মিন্টা দেবী এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন এবং বলেছেন যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।

মিন্টা দেবী, যাঁর আসল বয়স ৩৫ বছর, সিওয়ান জেলায় প্রথমবার ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করতে গিয়ে ভোটার তালিকায় তাঁর বয়স ১২৪ বছর দেখানো হয়েছে। তিনি বলেন, “প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বা রাহুল গান্ধী আমার কে? কে তাঁদের আমার ছবি টি-শার্টে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে? এটা ঠিক নয়।” তিনি আরও বলেন, তিনি জানতেন না যে তাঁর নাম এভাবে রাজনীতিতে ব্যবহার করা হবে।

মিন্টা দেবী মজা করে বলেন, “নির্বাচন কমিশন আমাকে ঠাকুমা বানিয়ে দিয়েছে। আমার বয়স ৩৫ বছর, আর আমি প্রথমবার ভোট দেওয়ার জন্য উৎসাহিত ছিলাম। কিন্তু ভোটার তালিকায় আমার বয়স ১২৪ বছর দেখানো হয়েছে। যদি সরকার আমাকে ১২৪ বছরের মনে করে, তাহলে আমাকে বৃদ্ধাভাতা দেওয়া উচিত।” তিনি জানান, তাঁর আধার কার্ডে জন্মসাল ১৯৯০ উল্লেখ থাকলেও কীভাবে তা ১৯০০ হয়ে গেল, তা তিনি জানেন না। তিনি এই ত্রুটি দ্রুত সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে, সিওয়ান জেলা প্রশাসন জানিয়েছে যে, মিন্টা দেবীর ভোটার তালিকার ত্রুটি সংশোধনের জন্য ১০ আগস্ট তাঁর কাছ থেকে একটি আবেদন পাওয়া গেছে। বিএলও’র মাধ্যমে ত্রুটি চিহ্নিত হওয়ার পর এটি ‘দাবি ও আপত্তির’ পর্যায়ে নিষ্পত্তি করা হবে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ২০০৪ সালের পর এসআইআর (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়া নিয়মিত না হওয়ায় ভোটার তালিকায় এই ধরনের ত্রুটি দেখা দিয়েছে এবং জালিয়াতি দূর করার জন্যই এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

মিন্টা দেবীর এই ঘটনা সংসদ থেকে শুরু করে সামাজিক মাধ্যম পর্যন্ত বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এক্স প্ল্যাটফর্মে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, “মিন্টা দেবী তাঁর ছবি ব্যবহারের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। বিরোধীদের এই ধরনের রাজনীতি কি নৈতিকভাবে সঠিক?” এই ঘটনা ভারতের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ত্রুটি এবং রাজনৈতিক প্রতিবাদে ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের নৈতিকতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।