“বড় অনুপ্রবেশ রুখল ভারতীয় সেনা”-কাশ্মীরের সেনা-জঙ্গির গুলির লড়াইয়ে নিহত জওয়ান

জম্মু-কাশ্মীরের বারামুলায় আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে নিয়ন্ত্রণ রেখা (LoC)। বুধবার ভোরে উরি সেক্টরের টিক্কা পোস্টের কাছে ভারতীয় সেনা এবং পাকিস্তানি জঙ্গিদের মধ্যে তীব্র গুলির লড়াই হয়। এই ঘটনায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক জওয়ান শহিদ হয়েছেন। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জঙ্গিরা একটি বড় ধরনের অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছিল, যা সফলভাবে ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এলাকা জুড়ে চিরুনি তল্লাশি অভিযান চলছে।
বুধবার ভোর সাড়ে ৩টে নাগাদ চুরান্ডা এলাকায় এই গুলির লড়াই শুরু হয়। পাকিস্তানি জঙ্গিরা মঙ্গলবার রাত থেকেই ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছিল। LoC পার হয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশের চেষ্টা করার সময়ই তারা ভারতীয় সেনার প্রতিরোধের মুখে পড়ে। অবস্থা বেগতিক বুঝে জঙ্গিরা গুলি চালানো শুরু করলে পাল্টা জবাব দেয় ভারতীয় জওয়ানরাও। এই সংঘর্ষে একজন জওয়ান গুরুতর আহত হন এবং পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।
সাম্প্রতিককালে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে একাধিক উস্কানিমূলক বার্তার পর এই ঘটনাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর এই অনুপ্রবেশের চেষ্টা পাকিস্তানের একটি বড় প্ররোচনা হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। সম্প্রতি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর ছেলে বিলাবল ভুট্টো জারদারির মন্তব্য উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়েছে।
ফ্লোরিডায় এক অনুষ্ঠানে পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির পাকিস্তানকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিলে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, “পাকিস্তান যদি মনে করে তারা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, তাহলে তারা অর্ধেক বিশ্বকে ধ্বংস করে দেবে।” অন্যদিকে, বিলাবল ভুট্টো জারদারি ‘অপারেশন সিঁদুর’ এবং সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রাখার অভিযোগ তুলে ভারতের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানান।
যদিও ভারতের বিদেশমন্ত্রক এই ধরনের হুমকিকে পাত্তা দেয়নি। ভারত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, এই ধরনের ব্ল্যাকমেল করে কোনো লাভ হবে না এবং ভারত তার জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত পদক্ষেপ নেবে। বারামুলার এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে যে, নিয়ন্ত্রণ রেখায় পাকিস্তানের প্ররোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং ভারতীয় সেনাবাহিনী তা প্রতিহত করতে বদ্ধপরিকর।