নির্বাচন কমিশনের নির্দেশের আংশিক পালন, ৪ নয়, ২ আধিকারিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা রাজ্যের

ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়মের অভিযোগে নির্বাচন কমিশন চারজন ডব্লিউবিসিএস আধিকারিককে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিলেও, রাজ্য সরকার মাত্র দুজনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছে। সোমবার মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া চিঠিতে জানিয়েছেন, চারজনের মধ্যে দুজনকে তাদের নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। এই পদক্ষেপ কমিশনের সম্পূর্ণ নির্দেশ না মেনে নেওয়ার পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।
এর আগে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন। এরপর মুখ্যসচিবের পাঠানো চিঠি থেকে জানা যায়, বারুইপুর পূর্ব (১৩৭) ও ময়না (২০৬) বিধানসভা কেন্দ্রের ফর্ম-৬ সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে এক নির্বাচনী আধিকারিক ও এক ডেটা এন্ট্রি অপারেটরকে ভোটার তালিকা সংশোধন ও নির্বাচন-সম্পর্কিত সমস্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এরা হলেন তমলুক ব্লকের পিএএও সুদীপ্ত দাস এবং বারুইপুর পূর্ব বিধানসভার ডেটা এন্ট্রি অপারেটর সুরজিৎ হালদার।
মুখ্যসচিব তাঁর চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, কমিশনের ৫ ও ৮ অগস্টের চিঠির প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকার অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে। তিনি এও জানান, দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করা আধিকারিকদের বিরুদ্ধে বিস্তারিত তদন্তের আগেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে তাদের মনোবল ভেঙে যেতে পারে।
তবে, কমিশন নির্দেশিত বাকি তিন আধিকারিক দেবত্তম দত্ত চৌধুরী, তথাগত মণ্ডল এবং বিপ্লব সরকারের বিরুদ্ধে তদন্ত এখনও চলছে বলে চিঠিতে জানানো হয়েছে। তদন্ত সম্পূর্ণ হলে বিস্তারিত ‘অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট’ কমিশনকে পাঠানো হবে।
নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে মুখ্যসচিবের চিঠিটি পাওয়ার পর এখন নির্বাচন কমিশন কী প্রতিক্রিয়া জানায়, সেটাই দেখার বিষয়। রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপকে কমিশনের নির্দেশের আংশিক পালন হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যেকার সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে।