বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কে সন্তানের জন্ম হলেও আইনত স্বামীই বৈধ পিতা, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিতর্ক

বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের জেরে সন্তানের জন্ম হলে তার বৈধ পিতা কে হবেন, এই বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের এই রায় নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, যদি কোনো বিবাহিত মহিলার সন্তান হয়, তাহলে তার জৈবিক পিতা যেই হোক না কেন, আইনত স্বামীকেই সেই সন্তানের বাবা হিসেবে গণ্য করা হবে। একইসঙ্গে, স্বামীকে তার স্ত্রী ও সন্তানের দায়িত্ব নিতে হবে।

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই নির্দেশের প্রধান উদ্দেশ্য হলো সন্তানের জন্ম সংক্রান্ত কোনো প্রশ্ন বা সামাজিক অসম্মান যাতে না ওঠে। আদালত স্পষ্ট করেছে, যদি কোনো স্বামী সন্তানের পিতৃত্ব অস্বীকার করতে চান, তাহলে তাকেই প্রমাণ করতে হবে যে তিনি এবং তার স্ত্রী দীর্ঘকাল ধরে কোনো শারীরিক সম্পর্কে ছিলেন না। যতক্ষণ পর্যন্ত স্বামী এই ধরনের প্রমাণ দিতে পারছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত বৈধ দাম্পত্য জীবনে জন্ম নেওয়া সন্তানের আইনত পিতা হিসেবে তাকেই ধরা হবে। এমনকি, পরকীয়ার অভিযোগ উঠলেও এই নিয়ম অপরিবর্তিত থাকবে।

আদালত আরও জানিয়েছে, ডিএনএ পরীক্ষার দাবি কোনো পক্ষের মৌলিক অধিকার নয়। সন্তানের কল্যাণ, তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং সামাজিক মর্যাদাকে জৈবিক সত্যের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

এই রায়ের ফলে দেশে বিভিন্ন মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমালোচকদের মতে, এই রায় পুরুষদের উপর অন্যায়ভাবে দায় চাপানো হচ্ছে। তাদের মতে, এমন সন্তানের দায়িত্ব নিতে বাধ্য করা হচ্ছে, যার জৈবিক পিতা তারা নন। আবার অনেকের মতে, এই রায় বৈবাহিক সম্পর্কের পবিত্রতা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতাকে রক্ষা করবে।

রায়ের মূল বিষয়বস্তু হলো:
১. কোনো বিবাহিত দম্পতি একসঙ্গে বসবাস করলে সেই সময় স্ত্রীর গর্ভে আসা সন্তানের পিতৃত্ব নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলা যাবে না।
২. এমনকি কোনো তৃতীয় ব্যক্তি পিতৃত্বের দাবি করলেও, আইন অনুযায়ী স্বামীই সন্তানের বৈধ পিতা হিসেবে বিবেচিত হবেন।
৩. আদালত আরও বলেছে, বিবাহিত সম্পর্কের মধ্যে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপকে উৎসাহিত করা উচিত নয়। যদি কোনো তৃতীয় ব্যক্তি পিতৃত্বের দাবি করেন এবং তার সপক্ষে সুস্পষ্ট প্রমাণ না থাকে, তবে সেই দাবি গুরুত্ব পাবে না।

এই নতুন রায় পারিবারিক আইন এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।