ভুয়ো ভোটার বিতর্কে নির্বাচন কমিশনের কড়া বার্তা, রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের ইঙ্গিত

ভুয়ো ভোটার তালিকা তৈরি এবং সরকারি আধিকারিকদের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে এবার রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের পথে হাঁটতে পারে নির্বাচন কমিশন। দুই ইআরও (Electoral Registration Officer) এবং দুই এইআরও (Assistant Electoral Registration Officer)-কে সাসপেন্ড করার সুপারিশ করা হলেও রাজ্য সরকার এখনও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এ পরিস্থিতিতে কমিশনের পক্ষ থেকে মুখ্যসচিবকে চিঠি দিয়ে চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের সুপারিশ সত্ত্বেও রাজ্য সরকারের কোনো তৎপরতা না থাকায় প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি দেবাশিস কর গুপ্ত এই বিষয়ে তিনটি সম্ভাব্য পথের কথা বলেছেন। তিনি জানান, যদি রাজ্য সরকার কমিশনের নির্দেশ উপেক্ষা করে, তাহলে কমিশনের হাতে তিনটি বিকল্প থাকবে।
১. নির্বাচনী প্রক্রিয়া স্থগিত: কমিশন তার কাজ বাধাপ্রাপ্ত হলে ভোটার তালিকা সংশোধিত না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন ঘোষণা স্থগিত রাখতে পারে। এর মাধ্যমে রাজ্য সরকারকে চাপ দেওয়া হবে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য।
২. রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করা: রাজ্য সরকারের সঙ্গে মতবিরোধের বিষয়টি কমিশন সরাসরি রাষ্ট্রপতিকে জানাতে পারে। এটি একটি গুরুতর সাংবিধানিক পদক্ষেপ, যা রাজ্য সরকারের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে।
৩. আইনি পদক্ষেপ: কমিশন আইনি পথে হাঁটতে পারে। এই বিরোধ মীমাংসার জন্য নির্বাচন কমিশন বা রাজ্য সরকার উভয়েই আদালতের দ্বারস্থ হতে পারে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ভোটার তালিকা বিতর্কে রাজ্যের চার সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে সাসপেনশন এবং এফআইআর দায়েরের সুপারিশ করেছিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে জানিয়ে দেন, “আমি প্রাণ দিয়ে রক্ষা করব”, এবং কোনো সরকারি অফিসারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। এই মন্তব্যের পর রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। কমিশন সূত্রে খবর, যদি মুখ্যসচিব নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনো জবাব না দেন, তাহলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে পারে নির্বাচন কমিশন। এই পরিস্থিতি রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।