বিশেষ: নিজেদেড় করা আবিষ্কারেই এইসব বিজ্ঞানীর হয় করুণ মৃত্যু, রইলো অবাক করা কিছু ঘটনা

অনেক সময় আমরা এমন কিছু যন্ত্র বা আবিষ্কারের কথা শুনি, যা মানব সভ্যতার ইতিহাসে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। কিন্তু সেই সব আবিষ্কারের নেপথ্যে থাকা কিছু উদ্ভাবকের জীবনাবসান হয়েছে তাদের নিজেদের তৈরি করা যন্ত্রের হাতেই। এখানে এমন কয়েকজন উদ্ভাবকের কথা তুলে ধরা হলো, যাদের অকাল মৃত্যু ঘটেছে নিজেদের আবিষ্কারের পরীক্ষা করতে গিয়ে বা তার ফলস্বরূপ।
সিলভাস্টার এইচ রোপার (Sylvester H. Roper): মোটরসাইকেল এবং অটোমোবাইলের ইতিহাসে তার নাম বিশেষভাবে উল্লেখ্য। তিনিই প্রথম স্টিম প্রপেলড বাইসাইকেল আবিষ্কার করেন। ১৮৯৬ সালে ম্যাসাচুসেটসের একটি বাইসাইকেল ট্র্যাকে নিজের আবিষ্কার পরীক্ষা করার সময় সাইকেলটি ঘণ্টায় ৬৪ কিলোমিটার বেগে ছুটছিল। হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান এবং তার মৃত্যু হয়।
ফ্রাঁ রেইক্লে (Franz Reichelt): ‘ফ্লাইং টেলর’ নামে পরিচিত এই ফরাসি দর্জি প্যারাশুট পোশাক আবিষ্কার করেছিলেন। তার এই আবিষ্কারের কার্যকারিতা প্রমাণের জন্য প্রথমে তিনি একটি পাঁচ তলা বাড়ি থেকে লাফ দিয়ে সফল হন। তবে আরও উঁচু থেকে পরীক্ষা করার জন্য তিনি আইফেল টাওয়ার থেকে লাফ দেন। দুর্ভাগ্যবশত, তার তৈরি প্যারাশুটটি কাজ করেনি এবং আইফেল টাওয়ারের নিচে আছড়ে পড়ে তার মৃত্যু হয়।
মেরি কুরি (Marie Curie): তেজস্ক্রিয় পদার্থ পোলোনিয়াম এবং রেডিয়ামের আবিষ্কারক হিসেবে মেরি কুরি বিশ্বজোড়া খ্যাতি অর্জন করেন। গবেষণার সময় তিনি অসাবধানতাবশত রেডিয়ামের টেস্ট টিউবগুলো পকেটে রাখতেন। দীর্ঘদিন ধরে তেজস্ক্রিয়তার সংস্পর্শে থাকার কারণে ধীরে ধীরে তার শরীরে এপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া রোগ বাসা বাঁধে এবং ১৯৩৪ সালে মাত্র ৬৬ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়।
জ্যাঁ ফ্রাসোয়াঁ পিলাত্রে দ্য রজিয়া (Jean-François Pilâtre de Rozier): রসায়ন ও পদার্থবিদ্যার শিক্ষক এবং বেলুনের একজন পথিকৃৎ ছিলেন তিনি। তার আবিষ্কৃত হট এয়ার বেলুনে চড়ে ইংলিশ চ্যানেল পার হওয়ার সময় সেটি ভেঙে পড়ে। সেই দুর্ঘটনায় তিনি এবং তার একজন সঙ্গী দুজনেই মারা যান।
ম্যাক্স ভ্যালিয়ার (Max Valier): এই অস্ট্রিয়ান বিজ্ঞানী লিকুইড ফুয়েলড রকেট ইঞ্জিনের উদ্ভাবক ছিলেন। ১৯২০-এর দশকের শেষের দিকে তিনি ‘ভ্যালিয়ার হেল্যান্ড র্যাক ৭’ নামে একটি রকেট কার তৈরি করেন। দুর্ভাগ্যবশত, ১৯৩০ সালে তার সেই রকেট ইঞ্জিনের একটি পরীক্ষার সময় তা বিস্ফোরিত হয় এবং তার মৃত্যু হয়।
ওটো লিলয়েনথাল (Otto Lilienthal): ‘গ্লাইডার কিং’ নামে পরিচিত এই জার্মান বিজ্ঞানী হ্যান্ড গ্লাইডার আবিষ্কার করেছিলেন। ১৮৯৬ সালে নিজের তৈরি গ্লাইডারের পরীক্ষা করার সময় তিনি নিয়ন্ত্রণ হারান এবং ৫০ ফুট উপর থেকে নিচে পড়ে তার মৃত্যু হয়।
উইলিয়াম বুলক (William Bullock): ওয়েব রোটারি প্রিন্টিং প্রেসের আবিষ্কারক উইলিয়াম বুলক তার নিজের তৈরি মেশিনের হাতেই প্রাণ হারান। ফিলাডেলফিয়ায় তার তৈরি প্রেস মেশিন ইনস্টল করার সময় দুর্ঘটনাবশত তার পা মেশিনে আটকে যায়। গুরুতর আহত হয়ে তার পায়ে গ্যাংরিন হয় এবং তার মৃত্যু হয়।
হোরাস লসন হানলি (Horace Lawson Hunley): বিশ্বের প্রথম কমব্যাট সাবমেরিন ‘সিএসএস হানলি’-র আবিষ্কারক তিনি। ১৮৬৩ সালে সাতজন ক্রু-কে নিয়ে নিজের তৈরি সাবমেরিনে রুটিন মহড়া দেওয়ার সময় সাবমেরিনটি আর জলের ওপর ভেসে ওঠেনি। এর ফলে হানলিসহ ৮ জনের সলিল সমাধি হয়।
আলেকজান্ডার বগড্যানভ (Alexander Bogdanov): রক্ত প্রতিস্থাপন নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে নিজের জীবন হারান এই রুশ বিজ্ঞানী। তার গবেষণার মূল উদ্দেশ্য ছিল রক্ত প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে যৌবন ধরে রাখা। গবেষণার অংশ হিসেবে তিনি ম্যালেরিয়া এবং যক্ষ্মায় আক্রান্ত একজন ছাত্রের রক্ত নিজের শরীরে প্রতিস্থাপন করেন, যার ফলে তার মৃত্যু হয়।
ভ্যালেরিয়ান অ্যাবাকোভস্কি (Valerian Abakovsky): এটি ছিল বিমানের ইঞ্জিন লাগানো একটি দ্রুতগতির রেল কার, যার নাম ছিল ‘অ্যারোওয়াগন’। ২১ জন যাত্রীকে নিয়ে এর একটি পরীক্ষামূলক যাত্রার সময় গাড়িটি লাইনচ্যুত হয়। এই দুর্ঘটনায় অ্যাবাকোভস্কিসহ ৬ জনের মৃত্যু হয়।