নিজের গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিল ১৩ বছরের কিশোরী, ফের শিরোনামে ওড়িশা

গত এক মাসের মধ্যে চতুর্থবারের মতো গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটলো ওডিশায়। এবার বরগড় জেলায় অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর দগ্ধ দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার সকালে এই ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ এবং শোকের জন্ম দিয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ১৩ বছর বয়সী ওই কিশোরী নিজের গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। তবে, কী কারণে সে এমন চরম সিদ্ধান্ত নিল, তা এখনও জানা যায়নি।
পুলিশ সূত্রে খবর, কিশোরীর বাবা একজন পরিযায়ী শ্রমিক এবং মা মামার বাড়িতে থাকেন। রাখি উপলক্ষে কিশোরী মামার বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল। সোমবার সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ স্থানীয়রা তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন। তার শরীরের বেশিরভাগ অংশ পুড়ে গিয়েছিল। সঙ্গে সঙ্গে তাকে বীর সুরেন্দ্র সাই ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস অ্যান্ড রিসার্চ (ভিমসার) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাদের অভিযোগ, খবর দেওয়ার প্রায় ৪৫ মিনিট পরেও অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছায়নি। এমনকি পুলিশও দেরিতে আসে বলে তাদের দাবি। কিশোরীর বাড়ি তেন্ডাপাটায় হলেও তার পরিবারের সদস্যরা এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং আত্মহত্যার পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে।
উল্লেখযোগ্য, গত ১২ই জুলাই একজন অধ্যাপকের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলে কলেজের মধ্যেই এক ছাত্রী নিজের গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন। এর মাত্র কয়েক দিন পর, ১৯শে জুলাই বালাঙ্গায় তিন দুষ্কৃতী এক নাবালিকার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপর ২রা আগস্ট কেন্দ্রাপাড়ায় তৃতীয় বর্ষের এক কলেজ ছাত্রীর দগ্ধ দেহ তার বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়।
একের পর এক এমন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্য সরকার প্লাস্টিকের বোতলে পেট্রল বিক্রি নিষিদ্ধ করেছিল। কিন্তু এই নতুন ঘটনা থেকে স্পষ্ট যে, এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আত্মহত্যার প্রবণতা কমাতে যথেষ্ট কার্যকর হচ্ছে না।