রাহুল-প্রিয়াঙ্কা সহ বিরোধী নেতাদের প্রিজন ভ্যানে তুলল দিল্লি পুলিশ, ব্যারিকেডের উপর মহুয়া-অখিলেশ

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে এবং ভোট চুরির প্রতিবাদে আজ দিল্লির রাজপথে বিক্ষোভ মিছিল করে ইন্ডিয়া (INDIA) জোট। দিল্লি পুলিশ এই মিছিলের অনুমতি না দেওয়া সত্ত্বেও রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, অখিলেশ যাদব এবং মহুয়া মৈত্রের মতো একাধিক বিরোধী নেতা-নেত্রী সংসদ ভবন থেকে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের দিকে অগ্রসর হতে শুরু করেন। কিন্তু পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করায় তাঁদের আটক করা হয়।
মিছিলে অংশগ্রহণকারী সাংসদদের আটকাতে দিল্লি পুলিশ বিশাল ব্যারিকেড তৈরি করেছিল। কিন্তু অখিলেশ যাদব ও মহুয়া মৈত্রের মতো নেতারা সেই ব্যারিকেডের উপরে উঠে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। এরপর পুলিশ রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং অন্যান্য বিরোধী সাংসদদের প্রিজন ভ্যানে তুলে সংসদ মার্গ থানায় নিয়ে যায়।
আটক হওয়ার পর রাহুল গান্ধী সাংবাদিকদের বলেন, “এই লড়াই কোনো রাজনৈতিক লড়াই নয়, এটা সংবিধান বাঁচানোর লড়াই। আমরা স্বচ্ছ ভোটার তালিকার জন্য আমাদের লড়াই চালিয়ে যাব।”
তৃণমূল সাংসদ সুস্মিতা দেব অভিযোগ করেন, “কমিশন দেশের নাগরিকদের ভোটাধিকার কেড়ে নিচ্ছে। যদি ভোটার তালিকায় এত ভুল থাকে, তাহলে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন কীভাবে অনুষ্ঠিত হলো? মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে এর জবাব দিতে হবে, অন্যথায় তিনি পদত্যাগ করুন।”
মিছিল চলাকালীন পুলিশ সাংসদদের এগোতে বাধা দিলে তাঁরা রাস্তায় বসে পড়েন এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তুলে স্লোগান দিতে থাকেন। বিভিন্ন রাজ্যের সাংসদরা নিজ নিজ ভাষায় স্লোগান দেন এবং কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পোস্টার প্রদর্শন করেন। প্রবীণ নেতা শরদ পওয়ার এবং মল্লিকার্জুন খাড়গের মতো নেতারাও বিক্ষোভে অংশ নেন।
পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে মহুয়া মৈত্র এবং মিতালী অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাঁদের প্রিজন ভ্যানে তুলে নেওয়া হয়। রাহুল, প্রিয়াঙ্কা, অখিলেশ, ডিম্পেল এবং তৃণমূলের ডেরেক ও’ব্রায়েনসহ একাধিক বিরোধী নেতা-নেত্রীকে তিনটি বড় বাসে করে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনায় দিল্লির রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।