“শুভেন্দু’র সঙ্গে আমার সম্পর্ক ভালো”, বিরোধী দলনেতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ তৃণমূল বিধায়ক চিরঞ্জিত !

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বিরল এক ঘটনা ঘটিয়ে তৃণমূলের তারকা বিধায়ক চিরঞ্জিত চক্রবর্তী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। রবিবার বারাসতের এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, “শুভেন্দুর সঙ্গে আমার সম্পর্ক ভালো। ও কিন্তু আমায় খুব ভালোবাসে। আমি যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন লোক, সেটা ও নিজেই আমাকে বলেছে। এটা হয়তো অনেকেই জানে না।”

সম্প্রতি বারাসতে ‘কন্যা সুরক্ষা যাত্রা’য় এসে শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলের একাধিক নেতাকে আক্রমণ করেছিলেন এবং চিরঞ্জিত চক্রবর্তীকে ‘বসন্তের কোকিল’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন। সেই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে চিরঞ্জিত কোনো পাল্টা আক্রমণ না করে উল্টো শুভেন্দুর প্রশংসা করে বসেন। তিনি বলেন, “শুভেন্দু আর আমার মধ্যে সম্পর্ক ভালো। আমি সবার সঙ্গেই হেসেখেলে কথা বলি। যেটা আমার সতীর্থ দেবও করে থাকে। সকলের সঙ্গেই আমরা সম্পর্ক রেখে চলি।”

চিরঞ্জিত তাঁর জনপ্রিয়তা কমেছে বলেও স্বীকার করে নেন। তাঁর কথায়, “যত দিন যাবে লোকের মধ্যে জনপ্রিয়তা ততই কমবে। সেটা তারকাদের ক্ষেত্রেও হয়ে থাকে। সেই নিরিখে আমার জনপ্রিয়তাও যে দিন দিন কমছে সেটা আমি বুঝতে পারছি। আগে কোনো কর্মসূচিতে যে ভিড় হত, সেই ভিড় দেখতে পাই না। তাতে ছাব্বিশের ভোটে প্রার্থী হলে জিতব কি না, জানি না।” তিনি আরও বলেন, “এত কাজ করার পরেও কেন বারাসতের সাংসদ ভোট পায় না, তাও আমি বুঝতে পারি না।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি পরোক্ষভাবে বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের দিকে ইঙ্গিত করেছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

তবে বারাসতে নিয়মিত আসার বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি প্রতি সপ্তাহে দু’দিন করে বারাসতে আসি। সেই হিসেবে মাসে ৮ দিন। বছরে ৯৬ দিন। তাহলে ১৫ বছরে কতবার এসেছি, হিসেব করে দেখলেই বোঝা যাবে।”

আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া নিয়েও তিনি তাঁর মনোভাব পরিষ্কার করেন। চিরঞ্জিত বলেন, “আমি রাজনীতির লোক নই। এটা স্বীকার করতে কোনো অসুবিধা নেই।” প্রার্থী হবেন কিনা, সেই সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেবেন বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, “তিনি যখন বলবেন, তখন বুঝতে পারব আমি ছাব্বিশের ভোটে লড়াই করছি কি না। তিনি যদি বলেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে, তখন তাঁর কথা ফেলতে পারব না।”

যদি তিনি প্রার্থী না হন, তাহলে বারাসত বিধানসভা কেন্দ্র থেকে কে প্রার্থী হতে পারেন, এই প্রশ্নের জবাবে চিরঞ্জিত বলেন, “শুধু ও কেন? প্রার্থী তালিকায় ৩৫ জনেরও নাম থাকতে পারে। আমি না দাঁড়ালে ৪০ জনেরও নাম উঠে আসতে পারে এখান থেকে।” এই মন্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।