মালদহে পাসপোর্ট অফিসে হিড়িক! ‘জনবিন্যাস পরিবর্তনের চক্রান্ত…’, বিস্ফোরক সুকান্ত

কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া শুরুর মুখে রাজ্যে ভোটার তালিকা থেকে অনুপ্রবেশকারীদের নাম বাদ দেওয়ার জোর চেষ্টা চলছে। এরই মধ্যে বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন রাজ্যের বিজেপি সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তিনি দাবি করেছেন, শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের সহায়তায় কিছু বিশেষ সম্প্রদায়ের অনুপ্রবেশকারীকে অবৈধভাবে ভারতীয় পাসপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। তার মতে, এর মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের জনবিন্যাস পরিবর্তনের একটি গভীর চক্রান্ত চলছে।

মালদহের পাসপোর্ট অফিসে হিড়িক ও অভিযোগের তীর
সুকান্ত মজুমদার বলেন, “সম্প্রতি আমার কাছে খবর এসেছে যে মালদহের পোস্ট অফিসে বিশেষ ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের পাসপোর্ট তৈরির হিড়িক পড়ে গেছে।” তিনি অভিযোগ করেন, এই পাসপোর্ট তৈরির প্রক্রিয়ায় স্থানীয় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তার মতে, “পাসপোর্ট ডিপার্টমেন্টে ভারত সরকারের কর্মীরা কাজ করলেও, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এবং শাসকদলের লোকজন একসঙ্গে মিলে টাকার বিনিময়ে এই কাজ করছে।”

তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন যে, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ অর্থের বিনিময়ে বহু বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে পাসপোর্ট পেতে সাহায্য করেছে। সুকান্ত মজুমদারের কথায়, “যে পাসপোর্টকে এসআইআর-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, মমতা ব্যানার্জির সরকার সেই পাসপোর্টকে জলভাতে পরিণত করে দিয়েছে।”

বাংলা ভাষা ও নাগরিকত্বের প্রসঙ্গ
বিজেপি রাজ্য সভাপতি আরও বলেন, “কেউ বাংলা ভাষায় কথা বললেই সে ভারতীয় হয় না।” তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বাংলা ভাষায় কথা বলেন এমন অনেকেই আছেন যারা অন্য দেশের নাগরিক, যেমন বাংলাদেশের শেখ হাসিনা বা মোহাম্মদ ইউনুস। তার মতে, নাগরিকত্বের জন্য শুধুমাত্র ভাষা যথেষ্ট নয়, বরং বৈধ প্রমাণপত্র প্রয়োজন।

সুকান্ত মজুমদারের এই অভিযোগগুলি এমন এক সময়ে এসেছে যখন রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে। তার এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এবং রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রশাসনিক কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় কিনা, এখন সেটাই দেখার বিষয়।