“জনপ্রিয়তা কমছে, জানি না জিতব কি না”- ছাব্বিশের ভোটের আগে আশঙ্কার সুর চিরঞ্জিতের গলায়!

আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া নিয়ে ফের একবার জল্পনা উসকে দিলেন বারাসতের তারকা বিধায়ক চিরঞ্জিত চক্রবর্তী। রবিবার বারাসত পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে একটি রক্তদান শিবিরে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি নিজের জনপ্রিয়তা কমেছে বলে দাবি করেন। তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
এর আগেও চিরঞ্জিত চক্রবর্তী প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, বয়স হয়েছে এবং এখন সময় হয়েছে দায়িত্ব হস্তান্তরের। রবিবার একই সুর বজায় রেখে তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঠিক করবেন আমি থাকছি কি না। তবে শেষপর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীকে বলব, আমাকে ছেড়ে দিন।”
তিনি যদি প্রার্থী না হন, তবে বারাসত কেন্দ্রে সম্ভাব্য প্রার্থী কারা হতে পারেন, এমন প্রশ্নের জবাবে চিরঞ্জিত বলেন, “যদি আমি না দাঁড়াই, ৩৫-৪০ জন আছে যারা দাঁড়াবে। কে দাঁড়াবে, সেটা দেখা যাবে। সিদ্ধান্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেবেন।” একইসঙ্গে তিনি আবারও বলেন, “আমার বয়স হয়েছে, ছেড়ে দিন।”
এরপরই চিরঞ্জিত বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেন। তিনি বলেন, “আমি জানি না জিতব কি না। কারণ লোকের তো জনপ্রিয়তা কমে। আমার কমেছে বুঝতে পারছি, সেই ভিড়টা আর হয় না।” যদিও পরের বাক্যেই তিনি বলেন, “আবার এত ভোটে কেন জিতে আসছি সেটাও জানি না। আবার সাংসদ কেন ভোট পায় না, সেটাও জানি না। তিনি তো এত কাজ করেন।”
এই মন্তব্যে তিনি নাম না করে বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের দিকে ইঙ্গিত করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। চিরঞ্জিতের এই মন্তব্য নিয়ে জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের মধ্যে চাপা ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। যদিও প্রকাশ্যে কেউ কিছু বলতে রাজি নন, তবে দলের অনেক নেতা মনে করছেন লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের আঙ্গিক সম্পূর্ণ আলাদা।
অন্যদিকে, এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার বিষয়টি হেসে উড়িয়ে দিয়েছেন এবং কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। চিরঞ্জিতের এই মন্তব্য দলের অন্দরে নতুন করে অস্বস্তি বাড়াল এবং ২০২৬ সালের ভোটের আগে বারাসতের রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে যায়, সেদিকেই নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল।