“আসল আসামীকে খুঁজে বের করতে হবে”, আরজি কর নির্যাতিতার মা-বাবার আন্দোলনকে কটাক্ষ করে বললেন রচনা

আরজি কর কাণ্ডে নির্যাতিতার পরিবারকে সমর্থন জানিয়ে হুগলির তৃণমূল সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, এই ঘটনার ‘আসল অভিযুক্তদের’ খুঁজে বের করে শাস্তি দেওয়া হোক। গত বছর ৯ই অগাস্ট আরজি কর হাসপাতালের এক ট্রেনি জুনিয়র ডাক্তার ধর্ষণ ও খুনের শিকার হয়েছিলেন। সেই ঘটনার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে গতকাল তাঁর বাবা-মা নবান্ন অভিযানের ডাক দিয়েছিলেন।
এই প্রসঙ্গে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এই ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। মুখ্যমন্ত্রী এটা নিয়ে যথেষ্ট আলোচনার চেষ্টা করেছিলেন। উনি চেয়েছিলেন সিবিআই তদন্ত হোক। সব কিছু নিয়েই একটা বছর কেটে গেল।” তিনি আরও বলেন, “শুধু আন্দোলন করলে তো হবে না। আমাদের আসল আসামীকে খুঁজে বের করতে হবে। অপরাধীরা শাস্তি পাক, এটাই আমরা চাই। এটা একটি বিচারাধীন ঘটনা। যারা এই কাজ করছে তাদের শাস্তি হোক এটাই চাই।”
গতকাল নবান্ন অভিযানের সময় নির্যাতিতার বাবা-মা’কে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। নির্যাতিতার মা বলেন, “কলকাতা পুলিশ মেরেছে। পুরুষ ও মহিলা পুলিশ উভয়েই লাঠিপেটা করেছে। আমার শাঁখা ভেঙে দিয়েছে। পিঠে লেগেছে। আমাকে ফেলেও দেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “কেন আমায় মারা হল? কেন আমার মেয়েকে কাজের জায়গায় মারা হল? কেন প্রশাসন সেদিন তৎপর হল না?” যদিও পুলিশ লাঠিচার্জের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
অভিযানের সময় নির্যাতিতার মা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর বাবাও একই হাসপাতালে ভর্তি হন। তাঁদের সঙ্গে থাকা এক চিকিৎসক জানান, মায়ের কপালে ভোঁতা কিছুর আঘাতের চিহ্ন এবং পিঠে একাধিক কালশিটে দাগ রয়েছে। তাঁদের দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
উল্লেখ্য, মেয়ের ধর্ষণ ও খুনের বিচার চেয়ে বাবা-মা গতকাল নবান্ন অভিযানে শামিল হয়েছিলেন। পার্ক স্ট্রিটের কাছে তাঁদের মিছিল আটকে দেওয়া হয়। পুলিশের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ সত্ত্বেও তাঁরা নবান্নে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। কিন্তু রেসকোর্সের কাছে অবস্থান করার সময় নির্যাতিতার মা অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে দু’জনকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।