পিএফের টাকা তুলতে গিয়ে চরম ভোগান্তি! ইপিএফও-র নতুন নিয়মে আটকে রয়েছে লক্ষ লক্ষ ক্লেম

এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন (EPFO)-তে টাকা তোলার আবেদন বা ক্লেম (Claim Settlement) নিয়ে তীব্র সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। পিএফ অ্যাকাউন্ট হোল্ডারদের অনেকেই টাকা তোলার জন্য আবেদন করলেও সেগুলি সময়মতো অটো-প্রসেস হচ্ছে না। বিগত ২০ দিনেরও বেশি সময় ধরে লক্ষ লক্ষ আবেদন মাঝপথেই আটকে রয়েছে, যা নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
কেন এই জটিলতা তৈরি হলো?
ইপিএফও-কে আরও বেশি ডিজিটাল এবং সাবস্ক্রাইবার-বান্ধব করে তোলার উদ্দেশ্যে সংস্থার আইটি সিস্টেমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নতুন এই সেন্ট্রালাইজড আইটি এনেবেলড সিস্টেমের (Centralized IT Enabled System) মাধ্যমে পিএফ ক্লেম মাত্র দুই থেকে তিনদিনের মধ্যে অটোমেটিক সেটেলমেন্ট হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সিস্টেম পরিবর্তনের এই রূপায়ণ প্রক্রিয়ার জেরেই বিপত্তি ঘটেছে।
এছাড়াও দফতরে কর্মী সংখ্যা কম থাকা এবং প্রাতিষ্ঠানিক কিছু কাঠামোগত সমস্যার কারণেও ক্লেম সেটেলমেন্টের গতি থমকে গেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ঠিক কী কারণে আবেদনগুলি আটকে রয়েছে বা বর্তমান ক্লেমগুলির সঠিক স্ট্যাটাস কী, সে বিষয়ে ফিল্ড অফিসার ও ইপিএফও-র সাধারণ কর্মীদের কাছেও স্পষ্ট কোনো ধারণা নেই।
মন্ত্রকে চিঠি দিল অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন
এই গোলযোগের জেরে গত ৩ আগস্ট ইপিএফও অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সরাসরি কেন্দ্রীয় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে ইপিএফ-এর সামগ্রিক কার্যপ্রক্রিয়ায় চলা এই সমস্যার কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
সংস্থার আধিকারিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই নতুন সেন্ট্রালাইজড আইটি সিস্টেমটি মূলত ২০২৩ সালেই চালু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা কারণে প্রজেক্ট ডেভেলপমেন্টে দেরি হওয়ায় চলতি বছরের জুলাই মাসে এটি চালু করা হয়। আর সিস্টেমের বিভিন্ন কারিগরি ত্রুটির কারণেই বর্তমানে এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করে গ্রাহকদের বকেয়া ক্লেমগুলি নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টমহল।