কমবে খরচ, বাড়বে ফলন! কৃষকদের জন্য বড় ঘোষণা, জমিতে ‘এই’ বিশেষ চাষ করলেই ডবল লাভ

মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি, রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমানো এবং ফসলের অধিক ফলন নিশ্চিত করতে মালদহের কৃষকদের জন্য বিশেষ ‘সবুজ সার’ বা ‘ঢেঁচা’ (Sesbania) চাষের পরামর্শ দিলেন কৃষি বিজ্ঞানীরা। কৃষিনির্ভর মালদহ জেলায় সারা বছর বিভিন্ন ধরনের ধান, সবজি ও অন্যান্য ফসল চাষ হলেও অনেক সময় পরিকল্পিত পদ্ধতির অভাবে কৃষকদের লোকসানের মুখে পড়তে হয়। সেই সমস্যা কাটাতে এবং মাটির স্বাস্থ্য ফেরাতে এবার সেসবানিয়া বা ঢেঁচা চাষের ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র।

কেন উপকারী সেসবানিয়া বা ঢেঁচা চাষ?
কৃষি বিজ্ঞানীদের মতে, সেসবানিয়া এক ধরনের ডালজাতীয় উদ্ভিদ, যা স্থানীয়ভাবে ‘ঢেঁচা’ নামে পরিচিত। এর বৈজ্ঞানিক কার্যকারিতা সম্পর্কে বলা হয়েছে:

প্রাকৃতিক নাইট্রোজেন স্থিরায়ন: এই উদ্ভিদের শিকড়ে থাকা রাইজোবিয়াম (Rhizobium) জীবাণু বায়ুমণ্ডল থেকে নাইট্রোজেন সরাসরি মাটিতে স্থির করতে সাহায্য করে। এর ফলে জমির উর্বরতা এবং মাটির স্বাস্থ্য উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়।

উৎকৃষ্ট জৈব সার: মূল ফসল বা সবজি চাষের আগে এই উদ্ভিদ জমিতে চাষ করে ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে—অথবা গাছ ৩ থেকে ৪ ফুট উচ্চতায় পৌঁছালে—তা ট্র্যাক্টর বা লাঙল দিয়ে জমিতেই মিশিয়ে দিতে হয়। এটি পচে চমৎকার জৈব সার হিসেবে কাজ করে। এর ফলে জমিতে ইউরিয়া বা অন্যান্য রাসায়নিক সারের প্রয়োজনীয়তা অনেকটাই কমে যায়।

বীজ উৎপাদন করে অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ
কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের বিজ্ঞানী ড. দূষ্য়ান্ত কুমার রাঘব জানান, সবুজ সার হিসেবে ব্যবহার ছাড়াও এই উদ্ভিদের বাণিজ্যিক গুরুত্ব রয়েছে। বীজ উৎপাদনের উদ্দেশ্যে চাষ করলে গাছ ৪৫ থেকে ৬০ দিন পর্যন্ত জমিতে রেখে তা থেকে বীজ সংগ্রহ করা সম্ভব। বাজারে বর্তমানে সেসবানিয়ার বীজের দাম সাধারণত প্রতি কেজি ৪৫ থেকে ১৩০ টাকার মধ্যে থাকে। ফলে সবুজ সার হিসেবে মাটির উর্বরতা বাড়ানোর পাশাপাশি বীজ বিক্রি করেও কৃষকরা অতিরিক্ত আয় করতে পারেন।

কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের পরামর্শে প্রায় তিন বিঘা জমিতে জৈব পদ্ধতিতে সেসবানিয়া চাষ করছেন স্থানীয় কৃষক সানাউল শেখ। তাঁর অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, যেকোনো ফসল বা সবজির আগে এই উদ্ভিদ জমিতে মিশিয়ে দিলে মাটির গুণগত মান বাড়ে, রাসায়নিক সারের খরচ কমে এবং মোটের ওপর ফলনও অনেক ভালো হয়।

দেখতে নিছক আগাছার মতো হলেও কৃষিজমির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সেসবানিয়া অত্যন্ত জাদুকরী ভূমিকা পালন করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের বিশ্বাস, মালদহ জেলাজুড়ে এই চাষের ব্যাপক প্রসার ঘটলে একদিকে যেমন চাষের খরচ কমবে, তেমনই মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষিত থাকবে এবং কৃষকদের পকেটেও আসবে দ্বিগুণ লাভ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *