৪ হাজারের বেশি রোগী দেখার পর অবশেষে গ্রেপ্তার ভুয়া নার্স, চাঞ্চল্য ঘটনায়

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় এক নারী প্রায় সাড়ে চার হাজার রোগীকে ভুয়া নার্স সেজে চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন। ২৯ বছর বয়সী ওই নারী, অটাম বারডিসা, নিজেকে একজন নিবন্ধিত নার্স হিসেবে পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছিলেন। তার বিরুদ্ধে লাইসেন্স ছাড়া চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান এবং প্রতারণার একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, অটাম বারডিসা গত বছর জুন থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত অ্যাডভেন্টহেলথ পাল্ম কোস্ট পার্কওয়েতে কাজ করেছেন। এই সময়ের মধ্যে তিনি ৪,৪৮৬ জন রোগীর চিকিৎসা করেছেন বলে তদন্তে জানা গেছে। তার এই প্রতারণা সামনে আসে যখন তাকে পদোন্নতির প্রস্তাব দেওয়া হয়। একজন সহকর্মী তখন খেয়াল করেন যে, তার নার্সিং সহকারী লাইসেন্সটির মেয়াদ আগেই উত্তীর্ণ হয়ে গেছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার প্রমাণপত্র নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলে তার চুক্তি বাতিল করা হয় এবং পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, তিনি অন্য একজন নার্সের লাইসেন্স নম্বর ব্যবহার করছিলেন, যার নামের প্রথম অংশের সাথে তার নামের মিল ছিল। জিজ্ঞাসাবাদের সময় বারডিসা দাবি করেন যে তিনি বিয়ের পর নাম পরিবর্তন করেছেন, কিন্তু বিয়ের কোনো সনদ দেখাতে ব্যর্থ হন।

সাত মাস ধরে চলা তদন্তের পর গত ৫ আগস্ট বারডিসাকে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় তিনি চিকিৎসকের পোশাক পরে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে লাইসেন্স ছাড়া চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার সাতটি এবং ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার সাতটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

ফ্ল্যাগলার কাউন্টির শেরিফ রিক স্ট্যালি এই ঘটনাকে ‘চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রতারণার সবচেয়ে উদ্বেগজনক ঘটনা’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “এই নারী হাজার হাজার মানুষের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলেছেন।”

স্থানীয় শেরিফ অফিস এমন রোগীদের জন্য একটি ই-মেইল চালু করেছে যারা মনে করছেন বারডিসার কাছ থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে অটাম বারডিসা শেরিফ পেরি হল ইনমেট ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি রয়েছেন এবং তার জামিনের জন্য ৭০ হাজার মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।