বারবার কেন ধস নামে হিমালয়ে? উঠে এল চাঞ্চল্যকর কারণ, জেনেনিন আপনিও

উত্তরাখণ্ড থেকে অরুণাচল প্রদেশ পর্যন্ত হিমালয়ের ১৩টি রাজ্যে ভূমিধসের ঘটনা দিন দিন বেড়ে চলেছে। ২০২২ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১১৮৬ দিনের মধ্যে ৮২২ দিনই এই অঞ্চলে চরম আবহাওয়া দেখা গেছে, আর এতে প্রাণ হারিয়েছেন ৮৬৩ জন। ভূতত্ববিদদের মতে, এই বিপর্যয়ের পেছনে প্রাকৃতিক এবং মানবসৃষ্ট উভয় কারণই দায়ী।

হিমালয় পর্বতমালার সৃষ্টি ও অস্থিরতা
ভূতত্ত্ববিদদের মতে, হিমালয়ের সৃষ্টি হয়েছিল প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি বছর আগে দুটি বিশাল ভূত্বকীয় প্লেটের সংঘর্ষের ফলে। প্রায় ২২ কোটি বছর আগে ইন্ডিয়ান প্লেট বছরে ২০ সেন্টিমিটার গতিতে উত্তরের ইউরেশিয়ান প্লেটের দিকে এগোতে থাকে। পরের ১৫ কোটি বছরে দুটি প্লেট মুখোমুখি ধাক্কা খায় এবং সেই সংঘর্ষের ফলে হিমালয় পর্বতমালার সৃষ্টি হয়। এখনো ইন্ডিয়ান প্লেটের চাপে ইউরেশিয়ান প্লেট ক্রমাগত পিছু হটছে। এই ভূতাত্বিক অস্থিরতার কারণেই হিমালয় অঞ্চল প্রায়ই ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে।

ভূমিধসের কারণ
এই প্রাকৃতিক অস্থিরতার পাশাপাশি মানবসৃষ্ট কিছু কারণেও হিমালয় অঞ্চলে ভূমিধসের ঘটনা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর প্রধান কারণগুলো হলো:

অপরিকল্পিত উন্নয়ন: হিমালয় এলাকায় একের পর এক হাইড্রোলিক প্রজেক্ট, হোটেল, রিসর্ট এবং রাস্তাঘাট তৈরি হচ্ছে, যা পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে।

নদীর স্বাস্থ্যহানি: উন্নয়নমূলক কাজের ফলে ভাগিরথী, মন্দাকিনী, অলকানন্দা, ধৌলিগঙ্গা এবং যমুনার মতো গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলোর স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এই সমস্ত কারণে হিমালয়ের মাটি ও পাথরের স্তর আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে, যার ফলে সামান্য বৃষ্টিতেও ভূমিধস হচ্ছে এবং প্রাণহানি ঘটছে।