তামিলনাড়ুতে পুলিশ আধিকারিককে কুপিয়ে খুন, অভিযুক্তরা পলাতক

তামিলনাড়ুর তিরুপুর জেলার উদ্মালপেটের কাছে এক পুলিশ আধিকারিককে কুপিয়ে খুনের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। উদ্মালপেট থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসএসআই) শানমুগাভেলকে সোমবার গভীর রাতে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এক পারিবারিক বিবাদ মেটাতে গিয়েই তিনি এই নৃশংস হামলার শিকার হন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কুড়িমঙ্গলমে স্থানীয় এআইএডিএমকে বিধায়কের একটি সম্পত্তিতে কর্মরত এক শ্রমিক ও তার দুই ছেলের মধ্যে মদ্যপ অবস্থায় ঝগড়া চলছিল। এসএসআই শানমুগাভেল রাতে টহল দেওয়ার সময় এই খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান এস্টেট কর্মী মূর্তি এবং তার দুই ছেলে থাঙ্গাপান্ডিয়ান ও মানিকান্দনের মধ্যে তীব্র বচসা চলছে।
শানমুগাভেল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন এবং আহত মূর্তি-কে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স ডাকেন। তিনি মূর্তির বড় ছেলে থাঙ্গাপান্ডিয়ানের সঙ্গে কথা বলছিলেন, তখনই হঠাৎ লুকিয়ে থাকা ছোট ছেলে মানিকান্দন একটি কাস্তে দিয়ে তার ওপর আক্রমণ করে। এরপর মূর্তি এবং তার বড় ছেলেও এই হামলায় যোগ দেয়। অভিযোগ, ওই পুলিশ আধিকারিককে ধাওয়া করে নির্মমভাবে কুপিয়ে খুন করা হয়।
শানমুগাভেলের গাড়ির চালক কোনোমতে পালিয়ে গিয়ে থানায় খবর দেন। ঘটনার পর থেকেই তিন অভিযুক্ত মূর্তি, থাঙ্গাপান্ডিয়ান এবং মানিকান্দন পলাতক। তাদের ধরতে পুলিশ পাঁচটি বিশেষ দল গঠন করেছে।
তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম.কে. স্ট্যালিন এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং মৃত পুলিশ আধিকারিকের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি নিহত শানমুগাভেলের পরিবারের একজন যোগ্য সদস্যকে সরকারি চাকরি এবং ১ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করেছেন।
এই ঘটনায় বিজেপির নেতা নারায়ণন তিরুপতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এই ধরনের ঘটনাকে ‘ব্যক্তিগত শত্রুতা’ বলে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং পরিস্থিতি খারাপ হলে তা নিয়ন্ত্রণে আনা একটি সৎ সরকারের কর্তব্য। প্রধান বিরোধী দল এআইএডিএমকে এই বিষয়ে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। এই ঘটনা আসন্ন রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।