নন্দীগ্রামের সমবায় ভোটে তৃণমূল-বিজেপি জোটের অভিযোগ, সরব সিপিএম

রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী কোচবিহারে হামলার শিকার হওয়ার পর, তাঁর নিজের গড় নন্দীগ্রামের রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। নন্দীগ্রামের সমবায় সমিতির নির্বাচনে তৃণমূল এবং বিজেপি জোট বেঁধেছে বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছে সিপিএম। তাদের দাবি, বাম প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে।

সিপিএম নেতা মহাদেব ভুঁইয়ার অভিযোগ, নন্দীগ্রাম ১ নম্বর ব্লকের মনুচক সমবায় সমিতিতে মোট ১২টি আসনে ভোট হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তৃণমূল ও বিজেপি জোট বেঁধে ১২টি আসনেই প্রার্থী দিয়েছে এবং বামেদের মনোনয়ন জমা দিতে গেলে তাদের তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে এই ১২টি আসনেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তৃণমূল-বিজেপি জোটের প্রার্থীরা জয়ী হচ্ছেন।

মহাদেব ভুঁইয়া বলেন, “আমাদের ৭ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিতে এসেছিলেন, কিন্তু তৃণমূল ও বিজেপি একসঙ্গে বাধা দিয়েছে। তৃণমূলের লোকেরা মারতে মারতে তাদের বের করে দিয়েছে।”

এই অভিযোগ অবশ্য অস্বীকার করেছে দুই দলই। তৃণমূলের ব্লক সহ-সভাপতি শেখ আলরাজি বলেন, সমবায় সমিতি একটি অরাজনৈতিক সংস্থা এবং শেয়ারহোল্ডাররা নিজেদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভোটে অংশ নেন। এর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক নেই। তিনি আরও বলেন, গত নির্বাচনে সিপিএম বিজেপিকে জিততে সাহায্য করেছিল।

অন্যদিকে, বিজেপির মণ্ডল সভাপতি ধনঞ্জয় ঘড়া দাবি করেছেন, তাদের পক্ষ থেকে ৯টি আসনে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে এবং বাকি তিনটি আসনে অন্যান্য রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছে। তিনি বলেন, “ভেকুটিয়া অঞ্চলের সব রাজনৈতিক দল আলোচনার মাধ্যমে অংশ নিয়েছে। যদি কেউ বলে তাদের অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয়নি, তার মানে তাদের পায়ের তলায় মাটি নেই।”

এই অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের ফলে নন্দীগ্রামের রাজনীতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনাটি তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে গোপন সমঝোতার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা রাজ্যের প্রধান দুই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মধ্যে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।