তিস্তার জলোচ্ছ্বাসে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ, বন্ধ জাতীয় সড়ক

সপ্তাহব্যাপী প্রবল বৃষ্টির জেরে উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। ঘূর্ণাবর্ত এবং মৌসুমী অক্ষরেখার প্রভাবে সক্রিয় বর্ষার কারণে তিস্তা নদী ফুঁসছে, যার জেরে একাধিক এলাকায় জাতীয় সড়কের উপর দিয়ে জল বইছে। রবিঝোরা এবং সেতিঝোরার কাছে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। তবে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা সেতিঝোরার কাছে, যেখানে জাতীয় সড়কের একটি বড় অংশ তিস্তার জলে বিলীন হয়ে গেছে।
এই পরিস্থিতির কারণে গত চার দিন ধরে ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক বন্ধ রয়েছে। এই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নতুন রাস্তা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে, যেখানে প্রতি মুহূর্তে বিপদ lurking করছে। রাস্তা তৈরির জন্য পাহাড় কেটে নতুন পথ তৈরি করা হচ্ছে, কিন্তু একপাশে তিস্তার স্রোত এবং বারবার পাহাড় কাটার কারণে নতুন করে ধসের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
এই এলাকার মাত্র ১৬০ মিটার দূরে পাহাড়ের অভ্যন্তরে একটি টানেল রয়েছে, যেখান দিয়ে সেবক-বাংলা রেল প্রকল্পের ট্রেন চলার কথা। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, নতুন করে বিপর্যয় ঘটলে পাহাড় কেটে আবার রাস্তা তৈরি করা সম্ভব হবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, যা সেবক-বাংলা রেল প্রকল্পের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
বিগত কয়েকদিনে উত্তরবঙ্গ ও সিকিমের অন্যতম প্রধান লাইফলাইন ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের বিভিন্ন প্রান্তে দফায় দফায় ধস নেমেছে। এর ফলে শিলিগুড়ি-গ্যাংটক যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। তারখোলা, তাকদা, তিনচুলে এবং লাভা-লোলেগাঁও যাওয়ার রাস্তাতেও ধস নেমেছিল, যা পর্যটক এবং স্থানীয়দের জন্য দুর্ভোগ তৈরি করেছে।
আবহাওয়া দপ্তর আগামী ৭২ ঘণ্টাতেও উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। ফলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা দল উদ্ধার ও মেরামতির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু লাগাতার বৃষ্টির কারণে কাজ ব্যাহত হচ্ছে।