আইএনটিটিইউসি নেত্রীর বিরুদ্ধে পেট্রোল পাম্পের মালিককে মারধরের অভিযোগ

তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি (INTTUC) নেত্রী কবিতা গুপ্তার বিরুদ্ধে এক পেট্রোল পাম্পের মালিককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে ফুলবাগান এলাকায়। এই ঘটনায় ফুলবাগান থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন পাম্পের মালিক সুমনা দাস রায়। এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
পাম্পের মালিক সুমনা দাস রায় দাবি করেছেন, গতকাল দুপুরে আইএনটিটিইউসি নেত্রী কবিতা গুপ্তা কয়েকজন লোককে সঙ্গে নিয়ে পাম্পে আসেন এবং জোর করে পাম্প বন্ধ করার কথা বলেন। সুমনা এই প্রস্তাবে রাজি না হলে তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। তিনি বলেন, “পুলিশের নির্দেশে আমি নতুন স্টাফ দিয়ে কাজ চালাচ্ছিলাম। কবিতা গুপ্তা পাম্পে ঢুকে আমার স্টাফদের মারধর করে এবং আমাকেও আক্রমণ করে। যাঁরা আমাকে বাঁচাতে এসেছিলেন, তাঁদেরকেও মারধর করা হয়।” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, কবিতা গুপ্তা আদালতের নির্দেশ মানতে অস্বীকার করেছেন।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত আইএনটিটিইউসি নেত্রী কবিতা গুপ্তার দাবি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি বলেন, পাম্পের প্রাক্তন কর্মীদের বকেয়া বেতন নিয়ে কথা বলতে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। সুমনা দাস রায় তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করেন। এই কারণেই তিনি সুমনাকে চড় মেরেছেন বলে স্বীকার করেছেন। কবিতা গুপ্তা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি আবার নেত্রীর নামে কুকথা বলা হয়, তবে তিনি আবার মারবেন।
তিনি বলেন, “আমি আইএনটিটিইউসি করি। ২৫ জন কর্মী দু’মাস ধরে বেতন পায়নি। আমি সেই বিষয়ে কথা বলতে গিয়েছিলাম। উনি পায়ের ওপর পা তুলে বসে আমার মুখ্যমন্ত্রীকে গালাগালি করছিলেন। আমি ক্যামেরার সামনে বলছি, যদি আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে গালাগালি করে, আমি আবার মারব।”
এই ঘটনায় ফুলবাগান থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এই ঘটনাটি তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল হতে পারে। শ্রমিক সংগঠনের এক নেত্রী যেভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নিলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।