অ্যান্ডারসন-তেন্ডুলকর ট্রফিতে সিরিজ সেরা শুভমন গিল, নেপথ্যে চমকপ্রদ ঘটনা ফাঁস

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সদ্য সমাপ্ত অ্যান্ডারসন-তেন্ডুলকর ট্রফি সিরিজে ভারতের অধিনায়ক শুভমন গিল ব্যাট হাতে দারুণ পারফরম্যান্স করলেও, সিরিজ সেরার পুরস্কার নিয়ে এক নাটকীয় ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। জানা গেছে, প্রথমে ইংল্যান্ডের কোচ ব্রেন্ডন ম্যাকালাম শুভমনকেই এই পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করলেও, শেষ দিনের চমকপ্রদ পারফরম্যান্সের পর তিনি মন বদলেছিলেন। তবে শেষ মুহূর্তে তা আর সম্ভব হয়নি।
ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার এবং জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার দীনেশ কার্তিক ‘ক্রিকবাজ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য ফাঁস করেছেন। তিনি জানান, চতুর্থ দিন খেলা শেষ হওয়ার পর ম্যাকালাম শুভমনের নামই সিরিজ সেরা হিসেবে মনোনীত করেন। এমনকি, সেই অনুযায়ী পুরস্কার বিতরণের জন্য মাইকেল আথারটন সব প্রশ্নও তৈরি করে ফেলেছিলেন।
কিন্তু ম্যাচের পঞ্চম দিনে সব হিসেব পাল্টে দেন ভারতীয় পেসার মহম্মদ সিরাজ। মাত্র ৪০ মিনিটের মধ্যে তিনি তার বিধ্বংসী স্পেলে ম্যাচের মোড় সম্পূর্ণ ঘুরিয়ে দেন। ইংল্যান্ডের জয়ের জন্য ৩৫ রান এবং ভারতের জন্য ৪ উইকেটের প্রয়োজন ছিল। সেই ৪ উইকেটের মধ্যে সিরাজ একাই ৩টি উইকেট নিয়ে ভারতের জয় নিশ্চিত করেন। ইনিংসে ৫টি এবং ম্যাচে মোট ৯টি উইকেট নিয়ে তিনি ভারতকে ঐতিহাসিক জয় এনে দেন।
সিরাজের এই জাদুকরী পারফরম্যান্সের পর ম্যাকালামের মনে পরিবর্তন আসে। কার্তিক বলেন, “পঞ্চম দিনে ৪০ মিনিট খেলা হওয়ার পর ম্যাকালাম তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে সিরাজের নাম বলেন। কিন্তু ততক্ষণে আথারটন প্রস্তুত হয়ে গিয়েছিলেন, তাই আর সিদ্ধান্ত বদলানো সম্ভব হয়নি।” এর ফলেই শুভমন গিলকেই সিরিজ সেরা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে ম্যাকালাম সিরাজের পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসা করেন, যা তার সিদ্ধান্তের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
ম্যাকালাম সিরাজের স্পেলের প্রশংসা করে বলেন, “সিরাজের হাতে বল মানেই প্রচণ্ড এনার্জি। ওর মধ্যে ফাস্ট বোলারদের জন্য প্রয়োজনীয় আত্মা রয়েছে। আজকের স্পেলটা সত্যিই সিরিজের ভাগ্য বদলে দিল।” এই সিরিজে সিরাজই একমাত্র বোলার যিনি পাঁচটি টেস্টই খেলেছেন এবং মোট ২৩টি উইকেট নিয়েছেন।
শেষ পর্যন্ত পুরস্কারটি শুভমনের হাতে গেলেও, ম্যাচের শেষ মুহূর্তে সিরাজের এই অসাধারণ পারফরম্যান্স দীর্ঘদিন ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে গেঁথে থাকবে। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, ভারতীয় ক্রিকেটের নতুন প্রজন্ম শুধু প্রতিভাবানই নয়, বরং মানসিক দৃঢ়তার জোরেও বড় খেলোয়াড় হয়ে উঠছে।