বিশ্বাসই জয়ের মূলমন্ত্র, ইংল্যান্ড টেস্ট জয়ের পর সিরাজের মা ও দাদার আবেগঘন বার্তা

ইংল্যান্ড টেস্টে ভারতীয় দলের ঐতিহাসিক জয়ের পর থেকেই চারিদিকে শুধুই পেসার মহম্মদ সিরাজের জয়গান। মাত্র ৩০ রানে এতগুলো উইকেট নিয়ে দলের জয় ছিনিয়ে আনার পর সিরাজ নিজেই জানিয়েছিলেন তার সাফল্যের রহস্য। তার ফোনে ওয়ালপেপারে লেখা ছিল ‘বিশ্বাস’। প্রায় সকলে যখন ভারতীয় দলের উপর থেকে আস্থা হারাচ্ছিল, তখন সিরাজ নিজের উপর বিশ্বাস রেখেছিলেন। এই জয়ের পর এবার মুখ খুলেছেন তার মা এবং দাদা, যারা সিরাজের এই সাফল্যের পেছনে থাকা অজানা গল্পগুলো তুলে ধরেছেন।

বাবার স্মৃতি ও মায়ের প্রার্থনা:

সিরাজের মা এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “ইংল্যান্ডে খেলতে যাওয়ার আগে ছেলে আমাকে বলেছিল, ‘মা, আমার জন্য প্রার্থনা কোরো, আমি যেন ভালো খেলতে পারি’।” তিনি জানান, সিরাজ তার প্রয়াত বাবার জন্য সবকিছু করতে পারেন। বাবাকে হারানোর পর সিরাজ ভেঙে পড়লেও, বাবার স্মৃতি এবং মায়ের আশীর্বাদ তার সব সময় সঙ্গী ছিল। “আমার প্রার্থনা সবসময় ওর সঙ্গে ছিল,” আবেগঘন কণ্ঠে বলেন তার মা।

ডায়েট এবং হাল না ছাড়ার মনোভাব:

সিরাজের বড় দাদা ইসমাইল ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সিরাজের শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাত্রার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, “সিরাজ ফিটনেসের উপর খুব বেশি মনোযোগ দেয়। সে জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে চলে এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাস মেনে চলে।” হায়দরাবাদে থেকেও সিরাজ খুব কমই বিরিয়ানি খান, তাও যদি তা বাড়িতে তৈরি হয়। বাইরের পিৎজা বা ফাস্ট ফুড একেবারেই খান না।

ইসমাইল আরও বলেন, “সিরাজ কখনও হাল ছাড়ে না।” চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দলে সুযোগ না পাওয়ার পরেও সে হতাশ না হয়ে আরও কঠোর পরিশ্রম করে। জিমে গিয়ে ফিটনেসের উপর মনোযোগ দেয় এবং সকাল-সন্ধ্যা কঠোর অনুশীলন চালিয়ে যায়। নিজের ভুলগুলো শুধরে নিয়েই সে আজ এই সাফল্য পেয়েছে।

সিরাজের এই জয়ের পর শশী থারুর, আসাউদ্দিন ওয়েইসি এবং এস এস রাজামৌলির মতো বিশিষ্টজনেরাও তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। সকলের এই প্রশংসা এবং পরিবারের আবেগঘন বার্তা সিরাজের এই সাফল্যকে আরও অর্থবহ করে তুলেছে।