ভারতীয় সেনার শক্তি বৃদ্ধি, ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের নতুন অর্ডার, পাকিস্তান আতঙ্কে

ভারতের প্রতিরক্ষা শক্তিকে আরও সুদৃঢ় করতে ভারতীয় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বায়ুসেনা যৌথভাবে ভারত-রাশিয়ান উদ্যোগের ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের আরও অর্ডার দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। আধুনিকীকরণের এই পদক্ষেপ ভারতের কৌশলগত প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ নিজেই স্বীকার করেছেন যে, ‘অপারেশন সিঁদুরের’ সময় ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের ভয়ে পাকিস্তানের হাঁটু কেঁপে গিয়েছিল।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের একটি উচ্চ-পর্যায়ের সূত্র অনুযায়ী, ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ এবং বায়ুসেনার জন্য এই শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রের স্থল ও আকাশ থেকে উৎক্ষেপিত সংস্করণ কেনার জন্য শীঘ্রই অনুমোদন দেওয়া হতে পারে। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি তার ৩.৫ ম্যাক গতি এবং ২৯০-৮০০ কিলোমিটার পাল্লার কারণে বিশ্বের দ্রুততম সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে পরিচিত। এটি যুদ্ধের সময় শত্রু দেশের কমান্ড সেন্টার এবং অস্ত্র ডিপোর মতো গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুগুলিকে নির্ভুলভাবে ধ্বংস করতে সক্ষম।

গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার জবাবে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করেছিল। ৭ মে এই অভিযানে ভারতীয় তিন সেনাবাহিনী একযোগে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছিল। এই হামলায় লস্কর-ই-তৈবা এবং জইশ-ই-মহম্মদের মতো জঙ্গি সংগঠনের ঘাঁটিগুলিও ধ্বংস করা হয়। ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর এই প্রথমবার ভারতের তিন বাহিনী একত্রে পাকিস্তানে আক্রমণ চালায়। এই অপারেশনে ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যকারিতা পাকিস্তানের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি করে, যা এখন তাদের পক্ষ থেকেও স্বীকার করা হচ্ছে।

নৌবাহিনীর জন্য এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলি বড় বড় রণতরীতে মোতায়েন করা হবে। অন্যদিকে, ভারতীয় বায়ুসেনা তাদের সুখোই-৩০এমকেআই যুদ্ধবিমানের বহরে এই ক্ষেপণাস্ত্রের আকাশ থেকে উৎক্ষেপিত সংস্করণ ব্যবহার করবে। এর ফলে ভারতীয় সেনাবাহিনী দূরবর্তী শত্রু লক্ষ্যবস্তুগুলিকে সফলভাবে আঘাত করতে সক্ষম হবে।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর নির্বাচনী ক্ষেত্র বারাণসীতে এক জনসভায় বলেন, “ব্রহ্মোস মিসাইলের শব্দ শুনলে পাকিস্তান ঘুমায় না।” তিনি লখনউতে ব্রহ্মোস অ্যারোস্পেসের নতুন কারখানার কথা উল্লেখ করে বলেন, উত্তরপ্রদেশে এখন ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি হবে এবং পাকিস্তান যদি কোনো ‘পাপ’ করে, তবে উত্তরপ্রদেশের তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্র জঙ্গিদের ধ্বংস করে দেবে। এই পদক্ষেপটি কেবল ভারতের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বৃদ্ধিই নয়, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ভারতের কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।