অঙ্গদান, শাস্ত্রের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে নতুন বিতর্ক, কী বললেন প্রেমানন্দ মহারাজ,

অঙ্গদান নিয়ে সমাজে যেমন আগ্রহ রয়েছে, তেমনই এই মহৎ কাজটি নিয়ে নানা ধরনের ধর্মীয় ও শাস্ত্রীয় প্রশ্নও উঠে আসে। প্রতি বছর ১৩ই আগস্ট বিশ্ব অঙ্গদান দিবস পালিত হলেও, এই বিষয়ে শাস্ত্র কী বলে তা নিয়ে অনেকেই জানতে চান। সম্প্রতি, বৃন্দাবনের আধ্যাত্মিক গুরু প্রেমানন্দ মহারাজ সৎসঙ্গে এই বিষয়ে তাঁর মতামত জানিয়েছেন, যা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রেমানন্দ মহারাজ বলেন, জীবিত অবস্থায় অঙ্গদান করা শাস্ত্র অনুযায়ী ঠিক। তিনি বলেন, “যদি আমরা সুস্থ ও জীবিত থাকা অবস্থায় অঙ্গ দিই, তা হলে ঠিক আছে। ব্রেন ডেড হয়ে গেলে অঙ্গদান উচিত নয়।” এর কারণ হিসেবে তিনি জানান যে, ব্রেন ডেড অবস্থায় যিনি অঙ্গ দিচ্ছেন, তার কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকে না, যা শাস্ত্রীয় দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্নবিদ্ধ।

তবে জীবিত অবস্থায় অঙ্গদানের পক্ষে তিনি জোরালো সওয়াল করেন। তিনি বলেন, “আমার চোখ দিয়ে যদি অন্য কেউ দেখতে পায়, তা হলে তো ভালোই।” তিনি আরও বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর তার অঙ্গ দিয়ে অন্য কারও উপকার হয়, তবে তা খুবই ভালো কাজ। এক্ষেত্রে দাতার সম্মতি বা স্বীকৃতি যে অত্যন্ত জরুরি, সে কথাও তিনি স্পষ্ট করে দেন।

প্রেমানন্দ মহারাজ অঙ্গদানের সপক্ষে দধীচি মুনির উদাহরণ দেন। দধীচি মুনি জগতের কল্যাণের জন্য নিজের দেহের হাড় দান করেছিলেন, যা দিয়ে বজ্রাস্ত্র তৈরি হয়েছিল। এই উদাহরণ থেকে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, যদি কেউ জগৎ ও সংসারের মঙ্গলের জন্য অঙ্গদান করেন, তবে তা একটি মহৎ ও উচিত কাজ।