“আপনারা আজ ফুল নিয়ে আমার মৃতদেহর সামনে দাঁড়াতেন”- কোচবিহারকান্ডে বিস্ফোরক শুভেন্দু

কোচবিহারে নিজের কনভয়ে হামলার শিকার হওয়ার পর রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন। তিনি সরাসরি রাজ্যের মন্ত্রী উদয়ন গুহর নেতৃত্বেই এই হামলা হয়েছে বলে দাবি করেছেন। মঙ্গলবার কোচবিহারে এসপি অফিস অভিযানের আগে তিনি এই মন্তব্য করেন।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, তাঁর জেড ক্যাটাগরির নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও কনভয়ের ওপর বাঁশ, লাঠি এবং ইট নিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। বেশ কয়েকটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে। এই হামলার ঘটনায় তিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
তিনি জানান, হামলার খবর তাঁর কাছে আগেই ছিল। এই বিষয়ে তিনি গতকাল গভীর রাতে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস, রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ, স্বরাষ্ট্র সচিব এবং ডিজিপি রাজীব কুমারকে মেইল করে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার নির্দেশ কার্যকর করার কথা মনে করিয়ে দিয়েছিলেন।
শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, হামলায় অংশগ্রহণকারী ৯০ শতাংশ মানুষই রোহিঙ্গা এবং বাংলাদেশি মুসলমান। তিনি বলেন, “আমি যাদের দেখলাম, তাদের ৯০ ভাগ রোহিঙ্গা, বাংলাদেশি মুসলমান, তাদেরকে আমরা ভারত থেকে তাড়াতে চাই।” কোচবিহার যেহেতু বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকা, তাই সেখানে অবৈধভাবে বাংলাদেশি ঢোকানো হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। পরিসংখ্যান দিয়ে তিনি বলেন, “গোটা ভারতে ভোটার বেড়েছে ৭ শতাংশ, কিন্তু কোচবিহারে ভোটার বেড়েছে ২৬ শতাংশ। শীতলকুচিতে ২৯ শতাংশ এবং দিনহাটায় ২৮ শতাংশ।”
শুভেন্দু বলেন, “আমি ভাল কাজে এসেছি, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে এসেছি, তাই প্রাণে রক্ষা পেয়েছি।” তিনি আরও বলেন, “আমি বুলেটপ্রুফ গাড়িতে উঠেছি। আমি যদি বুলেটপ্রুফ গাড়িতে না থাকতাম, তাহলে আপনারা আজ ফুল নিয়ে আমার মৃতদেহের সামনে দাঁড়াতেন।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি এই হামলাকে একটি পরিকল্পিত ‘প্রাণনাশের চেষ্টা’ হিসেবে তুলে ধরেছেন।
প্রসঙ্গত, শুভেন্দু অধিকারীর আইনজীবী গতকালই রাজ্য পুলিশ এবং মুখ্যসচিবকে চিঠি দিয়ে আদালতের নির্দেশ মেনে তাঁর কর্মসূচি পালনের কথা জানিয়েছিলেন, কিন্তু সেই নির্দেশ ঠিকভাবে কার্যকর হয়নি বলেই অভিযোগ।