তিস্তা সেতুতে পৌঁছলেই ট্রেনের চেন টানছেন ভক্তরা, শর্টকাটে জল্পেশ মন্দিরে যাওয়ার বুদ্ধি!

বলিউড ছবি ‘চেন্নাই এক্সপ্রেস’-এর দৃশ্যের মতোই চলন্ত ট্রেনের চেন টেনে নামার ঘটনা বাস্তবে ঘটেছে জলপাইগুড়ির জল্পেশ মন্দিরের কাছে। পুণ্যার্থীরা জল্পেশ মন্দিরে যাওয়ার জন্য তিস্তা রেল সেতুর ওপর ট্রেন থামিয়ে নেমে যাচ্ছেন, যা প্রশাসনের কাছে নতুন মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ঝুঁকিপূর্ণ প্রবণতা রোধ করতে জলপাইগুড়ি রোড স্টেশনের আরপিএফ তিস্তা রেলসেতুতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা করেছে।
প্রতি বছর শ্রাবণ মাসে জল্পেশ মন্দিরে শ্রাবণী মেলা বসে। এ সময়ে জল্পেশ মন্দিরে ভক্তদের ঢল নামে। জলপাইগুড়ি ছাড়াও কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, দার্জিলিং, অসম এবং বিহার থেকেও প্রচুর পুণ্যার্থী আসেন। ঐতিহ্যগতভাবে কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারের ভক্তরা ময়নাগুড়ি স্টেশনে নেমে দীর্ঘ পথ হেঁটে তিস্তার শ্রাবণী ঘাটে পৌঁছান। কিন্তু এ বছর অনেকেই একটি বিপজ্জনক পথ বেছে নিচ্ছেন।
গত দু’সপ্তাহ ধরে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, ময়নাগুড়ি স্টেশন পেরিয়ে দোমহনির কাছে তিস্তা সেতুতে ট্রেন পৌঁছলেই পুণ্যার্থীরা চেন টেনে তা থামিয়ে দিচ্ছেন। এর ফলে তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতু থেকে নেমে পায়ে হেঁটে মন্দিরের দিকে যাচ্ছেন। এমন ঘটনা প্রতিদিনই ঘটছে।
এই বিপজ্জনক প্রবণতা থামাতে রবিবার তিস্তা সেতুতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সে সময়েই চেন টেনে ট্রেন থামানোর অভিযোগে দীপঙ্কর সরকার, সম্রাট দাস এবং নন্দন সরকার নামে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। আরপিএফ জানিয়েছে, এই ভাবে ট্রেন থামানো শুধু আইনি অপরাধই নয়, এটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
মূলত তিস্তা-তোর্ষা এক্সপ্রেস এবং বঙ্গাইগাঁও-এনজেপি ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস, এই দুটি ট্রেনেই এমন ঘটনা বেশি ঘটছে। কয়েকদিন আগে বঙ্গাইগাঁও-এনজেপি ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনটিকে প্রায় ৪৫ মিনিট তিস্তা সেতুতে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল।
জলপাইগুড়ি রোড স্টেশনের আরপিএফ ইন্সপেক্টর বিপ্লব দত্ত বলেন, “আগে কখনও এমন ঘটনা দেখিনি। গত দু’সপ্তাহ ধরে আমরা এটি লক্ষ্য করছি। চেন টেনে ট্রেন থামানো একটি আইনত অপরাধ এবং এর ফলে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। এই প্রবণতা বন্ধ করতে আমরা তিস্তা সেতুতে আরপিএফ কর্মী মোতায়েন করেছি।”