ইএম বাইপাসে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড, প্লাস্টিক গোডাউনে ভয়াবহ আগুন

আজ দুপুরে কলকাতার ইএম বাইপাসের পাশে, মেট্রোপলিটনের সন্নিকটে একটি প্লাস্টিকের গুদামে বিধ্বংসী আগুন লাগে। নিমেষেই কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা এলাকা, আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। জে ডব্লিউ ম্যারিয়ট হোটেলের ঠিক পেছনে অবস্থিত এই গোডাউনের আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে বেশ কয়েকটি ঝুপড়ি, গৃহহীন হয়ে পড়েছেন বহু মানুষ।

দাহ্য পদার্থের উপস্থিতি ও বিস্ফোরণের শব্দ
প্রাথমিক অনুমান, গুদামে প্রচুর পরিমাণে দাহ্য প্লাস্টিক পদার্থ মজুত থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং এর তীব্রতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আগুন লাগার পর দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা গুদাম থেকে পরপর বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে।

স্থানীয়দের একাংশের দাবি, মিটার ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং শর্ট সার্কিটের ফলেই এই অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ: দমকলের দেরিতে ক্ষোভ
আগুন লাগার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং দ্রুত আগুন নেভানোর জন্য নিজেদের উদ্যোগে জল দেওয়া শুরু করেন। একটি পুকুর থেকে জল তুলে আগুন নিয়ন্ত্রণের প্রাথমিক চেষ্টা করা হয়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, আগুন লাগার অনেক পরে দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এই বিলম্বের কারণে ক্ষয়ক্ষতি আরও বেড়েছে বলে তাদের দাবি। যদিও দমকল সূত্রে জানা গেছে, এলাকার রাস্তা সরু হওয়ায় ইঞ্জিন পৌঁছাতে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে।

হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতি
এই বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে কোনো হতাহতের খবর না থাকলেও, একাধিক ঝুপড়ি পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ায় বহু মানুষ তাদের আশ্রয় হারিয়েছেন। এই ঘটনায় গৃহহীনদের পুনর্বাসন নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

বর্তমানে দমকলের বেশ কয়েকটি ইঞ্জিন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আগুন নেভানোর কাজ করছে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, দমকল কর্মীদের নিরলস চেষ্টায় আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে আরও কিছুটা সময় লাগবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই ঘটনা আবারও শহরের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ঘিঞ্জি বসতির ঝুঁকির দিকটি তুলে ধরল। কীভাবে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটলো এবং এই ধরনের গোডামের নিরাপত্তার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।