মুখ্যমন্ত্রীর টুইট ঘিরে শিলিগুড়িতে উত্তাপ, বিজেপির প্রতিবাদ মিছিলে সরব নারী শক্তি

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক একটি টুইটকে কেন্দ্র করে শিলিগুড়ির রাজনৈতিক অঙ্গন ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রীর বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে আজ শহরে বিশাল প্রতিবাদ মিছিল বের করল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। এই মিছিলে দলের মহিলা কর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো, যা শাসকদলের বিরুদ্ধে বিজেপির ক্রমবর্ধমান ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে।

বিজেপির এই প্রতিবাদ মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন দলের পরিচিত মুখ এবং স্থানীয় বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিজেপির একাধিক মহিলা নেত্রী ও কর্মী, যাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর টুইটের কড়া সমালোচনা করে স্লোগান দেন। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নারী বিরোধী এবং জনবিরোধী মন্তব্যের অভিযোগ তোলেন।

প্রতিবাদের কারণ: মুখ্যমন্ত্রীর টুইট
ঠিক কোন টুইটকে কেন্দ্র করে এই প্রতিবাদ, তা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ না করা হলেও, বিজেপির অভিযোগের তীর মুখ্যমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের দিকে, যা তাদের মতে রাজ্যের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মহিলাদের ভাবাবেগে আঘাত করেছে। বিজেপির নেতা-কর্মীরা মনে করছেন, মুখ্যমন্ত্রী তাঁর টুইটে যে ভাষা ব্যবহার করেছেন বা যে বিষয়বস্তু তুলে ধরেছেন, তা রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধানের পদের সঙ্গে মানানসই নয় এবং তা রাজনৈতিক পরিবেশকে কলুষিত করছে।

নারী শক্তির অংশগ্রহণ ও শঙ্কর ঘোষের বার্তা
মিছিলে মহিলা কর্মীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তাঁদের হাতে ছিল বিভিন্ন প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড, যেখানে মুখ্যমন্ত্রীর টুইটের বিরুদ্ধে স্লোগান লেখা ছিল। একজন মহিলা কর্মী বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী যখন সাধারণ মানুষের কথা বলেন, তখন তাঁর নিজেরই উচিত শালীনতা বজায় রাখা। তাঁর টুইট রাজ্যের মহিলাদের অসম্মান করেছে, তাই আমরা এর প্রতিবাদে পথে নেমেছি।”

শঙ্কর ঘোষ মিছিলে হেঁটে সাংবাদিকদের বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়িত্ব অনেক। কিন্তু তাঁর সাম্প্রতিক টুইট প্রমাণ করে যে তিনি কতটা দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং কীভাবে রাজ্যের মানুষের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করছেন। বিশেষ করে মহিলাদের প্রতি তাঁর মন্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানাচ্ছি। বিজেপি রাজ্যের প্রতিটি কোণায় মুখ্যমন্ত্রীর এই অপশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে।”

রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে
শিলিগুড়িতে বিজেপির এই প্রতিবাদ মিছিল রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপির মধ্যে চলমান রাজনৈতিক চাপানউতোরকে আরও এক ধাপ বাড়িয়ে দিল। আসন্ন নির্বাচনগুলির আগে এই ধরনের ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক পারদকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য এখনও এই মিছিল বা অভিযোগ নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। তবে, শিলিগুড়ির রাজপথে বিজেপির এই বিক্ষোভ প্রমাণ করে দিল যে মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিটি পদক্ষেপের উপর বিরোধীরা কড়া নজর রাখছে এবং যেকোনো সুযোগে তারা পথে নেমে প্রতিবাদ জানাতে প্রস্তুত।