যুদ্ধবিরতির আহ্বান সত্ত্বেও চলছে গোলাগুলি, জেনেনিন থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়ার কী পরিস্থিতি?

থাইল্যান্ড এবং কম্বোডিয়ার মধ্যে চলমান সীমান্ত বিরোধ রবিবার চতুর্থ দিনেও থামেনি। যুদ্ধবিরতির আহ্বান এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে ভারী গোলাগুলি অব্যাহত রয়েছে। রবিবার সকাল থেকেই সীমান্ত এলাকায় কামানের তীব্র শব্দ শোনা গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
সংবাদ সংস্থা এএফপি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, রবিবার ভোর থেকেই সীমান্তে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়। কম্বোডিয়ার সমরং শহর, যা সীমান্ত থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত, সেখানেও কামানের একটানা শব্দে মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনা স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে সীমান্ত পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। এমন এক সময়ে এই সংঘর্ষ চলছে যখন উভয় দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা তীব্র হয়েছে, কিন্তু আজকের গোলাগুলি প্রমাণ করে যে স্থলভাগের পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণহীন।
থাইল্যান্ড এবং কম্বোডিয়ার মধ্যে সীমান্ত বিরোধ বহু বছরের পুরনো। মূলত ঐতিহাসিক মন্দিরগুলির মালিকানা নিয়েই এই বিবাদ। উভয় দেশই এই গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলির ওপর নিজেদের দাবি জানিয়ে আসছে। ৮১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত নিয়ে দুই দেশের মধ্যে এই বিরোধ বিদ্যমান, তবে বিশেষভাবে ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে ঘোষিত ‘প্রেহ বিহার’ মন্দিরটিই দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনার প্রধান কারণ। ১৯৬২ সালে, আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (ICJ) এই মন্দিরটি কম্বোডিয়ার কাছে হস্তান্তর করার রায় দিলেও, থাইল্যান্ড সেই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণরূপে মেনে নেয়নি, যা বর্তমান সংঘাতের মূল ভিত্তি।
আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ: ট্রাম্প ও ভারতের প্রতিক্রিয়া
এই সামরিক সংঘাতের প্রতিক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির আহ্বান: শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে তিনি কম্বোডিয়া এবং থাইল্যান্ডের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তার মতে, উভয় দেশই অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি চায়।
ভারতের সংযম ও আলোচনার আহ্বান: ভারত এই পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, “উভয় দেশের সঙ্গেই ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। তাই, আমরা চাই থাইল্যান্ড এবং কম্বোডিয়ার মধ্যে লড়াই বন্ধ হোক এবং উত্তেজনা কমুক। এর পর, উভয় দেশেরই আলোচনার মাধ্যমে তাদের মতপার্থক্য নিরসন করা উচিত।” এর পাশাপাশি, থাইল্যান্ডে ভারতীয় দূতাবাসের পর কম্বোডিয়ায় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসও তাদের নাগরিকদের সীমান্ত এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।
এই সংঘাত আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুতর হুমকি তৈরি করছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দ্রুত শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে।