বিশেষ: দামই বলে দেবে পনির আসল না নকল‍, জেনেনিন বাজারে খাঁটি কিনতে কত লাগে?

নিরামিষের দিনে পনির প্রেমীরা সাবধান! বাজার ছেয়ে গেছে নকল পনিরে, যা দেখতে অবিকল আসল পনিরের মতোই। অথচ এই ভেজাল পনির খেলে স্বাস্থ্যের উপকারের পরিবর্তে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে, এমনকি খাদ্যে বিষক্রিয়া, কিডনি এবং লিভারের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গেরও ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। প্রশ্ন হলো, এত ভেজালের ভিড়ে কীভাবে চিনবেন আসল পনির?

আসল এবং নকল পনিরের মধ্যে পার্থক্য করা অত্যন্ত কঠিন, কারণ দুটোই দেখতে প্রায় একই রকম। তবে কিছু সহজ উপায়ে এই ভেজাল ধরা সম্ভব, যা পনির কেনার আগে আপনাকে সাবধান থাকতে সাহায্য করবে।

আসল পনির চেনার সহজ উপায়:
এর জন্য, প্রথমে একটি ছোট পনিরের টুকরো নিন এবং সেটি ৫ মিনিটের জন্য গরম জলে ফোটান। এরপর, একটি মেডিকেল স্টোরে পাওয়া আয়োডিন টিংচারের এক ফোঁটা পনিরের উপর ফেলুন। যদি পনিরের রঙ নীল বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক রঙে পরিবর্তিত হয়, তাহলে সতর্ক হোন। এটি নকল বা ভেজাল পনির হতে পারে, যা সম্ভবত দুধ থেকে তৈরি হয়নি। এই ধরনের ভেজাল পনিরে সাধারণত স্টার্চ মেশানো থাকে, যা আয়োডিনের সংস্পর্শে এসে রঙ পরিবর্তন করে।

কেন নকল পনির এত ছড়াচ্ছে?
আসল পনির যেখানে প্রতি কেজি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়, সেখানে ভেজাল অপরিষ্কার পনির মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। নকল পনির সস্তা এবং দেখতে আসল জিনিসের মতো হওয়ায় এটি সহজে ধরা পড়ে না। কিন্তু, এর ব্যবহার বা সেবন আপনাকে গুরুতর অসুস্থ করে তুলতে পারে।

নকল পনিরের ক্ষতিকারক দিক:
কৃত্রিম পনির সাধারণত ভেজাল তেল, স্টার্চ, ডিটারজেন্ট এবং বিভিন্ন রাসায়নিক দিয়ে তৈরি হয়। এটি তৈরিতে দুধ ব্যবহার করা হয় না, বরং এর গঠন তৈরি করা হয় সস্তা রাসায়নিক ব্যবহার করে। এই ধরনের নকল পনির দীর্ঘ সময় ধরে তাজা দেখালেও, এটি খেলে পেটের রোগ, খাদ্যে বিষক্রিয়া এবং দীর্ঘমেয়াদে লিভার ও কিডনির মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।

অতএব, আপনার এবং আপনার পরিবারের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য, পনির কেনার আগে সর্বদা সতর্ক থাকুন এবং উল্লেখিত পদ্ধতিটি ব্যবহার করে পরীক্ষা করে নিন। সুস্থ থাকতে ভেজালমুক্ত খাবার গ্রহণ অপরিহার্য।