ব্যান্ডেল ESI হাসপাতালে চরম অব্যবস্থা, বিধায়কের অভিযোগ ঘিরে নতুন বিতর্ক

হুগলির ব্যান্ডেল ESI হাসপাতাল এবার নতুন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। স্থানীয় বিধায়ক অসিত মজুমদার নিজেই এই হাসপাতালের বিরুদ্ধে ‘বেআইনি নিয়োগ’ এবং ‘নিম্নমানের পরিষেবা’-র মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। বিধায়কের এই বিস্ফোরক মন্তব্য হাসপাতাল চত্বরে এবং জনমানসে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চরম অস্বস্তিতে ফেলেছে।

জানা গেছে, বিধায়ক অসিত মজুমদার সম্প্রতি হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। সেখানেই তিনি হাসপাতালের অব্যবস্থা এবং নিম্নমানের পরিষেবা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগের মূল বিষয়গুলি হল:

বেআইনি নিয়োগ: বিধায়ক অসিত মজুমদার সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, ব্যান্ডেল ESI হাসপাতালে বেশ কিছু নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ম মেনে হয়নি, যা সম্পূর্ণভাবে বেআইনি। এই অভিযোগ যদি সত্য হয়, তাহলে তা হাসপাতালের স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক দক্ষতার ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করবে।

নিম্নমানের পরিষেবা: রোগীদের দেওয়া চিকিৎসা পরিষেবার মান নিয়েও বিধায়ক তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, রোগীরা এখানে পর্যাপ্ত এবং মানসম্মত পরিষেবা পাচ্ছেন না।

খাদ্যের মান নিয়ে ক্ষোভ: সবথেকে তাৎপর্যপূর্ণ অভিযোগগুলির মধ্যে একটি হলো রোগীদের দেওয়া খাবারের মান নিয়ে। বিধায়ক স্বয়ং রোগীদের নিম্নমানের খাবার দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। হাসপাতালের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে, যেখানে রোগীদের সুস্থতার জন্য সঠিক পুষ্টি অপরিহার্য, সেখানে খাবারের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠা অত্যন্ত গুরুতর বিষয়।

বিধায়ক অসিত মজুমদারের এই অভিযোগগুলি নিছকই রাজনৈতিক মন্তব্য নয়, বরং একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে সরাসরি হাসপাতালের অব্যবস্থা তুলে ধরা। এর ফলে, হাসপাতালের প্রশাসনিক কাঠামো এবং কার্যকারিতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয় নাগরিকরা এবং রোগী পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরেই হাসপাতালের পরিষেবা নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন বলে জানা গেছে, তবে বিধায়কের মুখ থেকে এই অভিযোগ আসায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে।

এই ঘটনা ব্যান্ডেল ESI হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। বেআইনি নিয়োগের অভিযোগের যদি সত্যতা প্রমাণিত হয়, তবে এর পিছনে দুর্নীতির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে, নিম্নমানের চিকিৎসা ও খাদ্য পরিষেবা নিয়ে অভিযোগ দ্রুত খতিয়ে দেখা প্রয়োজন, যাতে রোগীরা সুচিকিৎসা পান।

এই অভিযোগের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয় এবং বিধায়কের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কোনো তদন্ত শুরু হয় কিনা, এখন সেটাই দেখার বিষয়। তবে, এই ঘটনা নিশ্চিতভাবেই ব্যান্ডেল ESI হাসপাতালের ভাবমূর্তিকে অনেকটাই ক্ষুণ্ণ করেছে।