মুর্শিদাবাদে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জালিয়াতি চক্রের পর্দাফাঁস, ডোমকল থেকে ঝাড়খণ্ডের ৩ যুবক গ্রেফতার

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জালিয়াতির এক বৃহৎ চক্রের পর্দাফাঁস করল মুর্শিদাবাদ সাইবার ক্রাইম পুলিশ। এই ঘটনায় ঝাড়খণ্ডের দেওঘর এলাকার তিন যুবককে ডোমকল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতরা হলেন সালাউদ্দিন আনসারি, কালামউদ্দিন আনসারি এবং নিয়াজ আনসারি। এই গ্রেফতারি মুর্শিদাবাদ জেলায় সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের এক বড় সাফল্য হিসাবে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই তিনজনের গ্রেফতারি আসলে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জালিয়াতি চক্রের মূল যোগানদার মুলকেশ হোসেনকে পূর্বে গ্রেফতার করার ফল। মুলকেশ হোসেনের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই এই তিনজনকে চিহ্নিত করা হয় এবং গতকাল রাতে ডোমকল থেকে তাদের জালে তোলে পুলিশ।

মুর্শিদাবাদ সাইবার ক্রাইম পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তরা মুলকেশ হোসেনের সহযোগিতায় বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের পাসবুক সংগ্রহ করত। এরপর ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা ঢোকানো হতো। পরবর্তী ধাপে, তারা গ্রাহকদের কাছ থেকে কৌশলে ওটিপি (One Time Password) সংগ্রহ করে সেই টাকা তুলে নিত।

পুলিশের তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। জানা গেছে, মুলকেশ হোসেন বিভিন্ন মানুষকে টাকার লোভ দেখিয়ে অথবা অন্যান্য সহযোগিতার অছিলায় তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হাতিয়ে নিত। এর আগেও ২০২০ সালে মুলকেশ হোসেন একটি অনুরূপ জালিয়াতির ঘটনায় জড়িত ছিল। সেই সময় এয়ারপোর্ট থানা থেকে সংশ্লিষ্ট উপভোক্তার কাছে নোটিশও এসেছিল। যদিও সে সময় এয়ারপোর্ট থানায় বিষয়টি সমাধান হয়েছিল, কিন্তু মুলকেশ সেই উপভোক্তাকে বিভিন্নভাবে ভয় দেখিয়ে চুপ করিয়ে দিয়েছিল।

২০২৫ সালের জুলাই মাসে মুর্শিদাবাদ সাইবার ক্রাইম থানায় ব্যাংক জালিয়াতি সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ জমা পড়তে শুরু করে। এই অভিযোগগুলির সূত্র ধরেই পুলিশ তদন্তে নামে এবং অবশেষে এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত ঝাড়খণ্ডের তিন বাসিন্দাকে ডোমকল থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

এই গ্রেফতারির ফলে সাইবার অপরাধীদের একটি বড় নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া সম্ভব হলো বলে মনে করছে পুলিশ। এই চক্রের সাথে আর কারা জড়িত এবং এর বিস্তার কতটা, তা জানতে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। এই ঘটনা সাইবার সুরক্ষার গুরুত্ব এবং অনলাইনে আর্থিক লেনদেনে আরও সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।