বোলপুরে পচাগলা অজ্ঞাতপরিচয় মৃতদেহ উদ্ধার, চাঞ্চল্য ও উদ্বেগে স্থানীয়রা

বোলপুরের নানুর ব্লকের পাপুড়ি গ্রামে একটি পচাগলা অজ্ঞাতপরিচয় মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় শুক্রবার সকালে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা একটি মাদ্রাসার পেছনে খালের মধ্যে মৃতদেহটি পড়ে থাকতে দেখে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেন। বোলপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করে এবং বোলপুর হাসপাতালে নিয়ে আসে।
মৃতদেহের অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে, স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত সম্ভব নয় বলে জানানো হয়েছে। এরপর দেহটি বিস্তারিত পরীক্ষার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, উদ্ধার হওয়া মৃতদেহটি একজন মহিলার। তবে, মৃতার বয়স, পরিচয় এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনও কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও জল্পনা শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১৯শে জুলাই নানুর থানার খালা গ্রাম থেকে এক নাবালিকা নিখোঁজ হয়েছিল এবং তার পরিবার থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেছিল। বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল দাবি করেছেন যে, খালে উদ্ধার হওয়া মৃতদেহটি নিখোঁজ সেই নাবালিকারই হতে পারে। তিনি অভিযোগ করেছেন, “ওই নাবালিকাকে নৃশংসভাবে অত্যাচার করে খুন করা হয়েছে। বিষয়টি যেন গা শিউরে ওঠে।”
যদিও এখনও পর্যন্ত মৃতদেহের শনাক্তকরণ বা নিখোঁজ নাবালিকার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ বা পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে এবং পুলিশ সবদিক খতিয়ে দেখছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাপুড়ি গ্রাম এবং সংলগ্ন এলাকায় তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার দ্রুত তদন্ত এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।