“বারবার প্রত্যাখ্যান হয়েছি…”-বলিউডের অন্ধকার দিক নিয়ে মুখ খুললেন জনি কন্যা জ্যামি

বলিউডের জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা জনি লিভারের মেয়ে এবং অভিনেত্রী জ্যামি লিভার সম্প্রতি মায়ানগরীর এক ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছেন। বারবার প্রত্যাখ্যানের মুখোমুখি হয়েছেন জ্যামি, আর ছোটবেলা থেকেই সহ্য করতে হয়েছে নানা হেনস্থা। এবার তিনি মুখ খুললেন বলিউডের অন্ধকার দিক, বিশেষ করে স্বজনপোষণ এবং একজন ‘স্টারকিড’ হওয়ার বাস্তবতার ওপর।
মুম্বাইয়ে প্রতি বছর অসংখ্য মানুষ স্বপ্ন পূরণের তাগিদে পাড়ি জমান। লাইট, ক্যামেরা, গ্ল্যামার আর সাফল্যের মোহে দিন-রাত ‘স্ট্রাগল’ করেন অনেকে। কেউ সফল হন, কেউবা আশাহত হয়ে ফিরে যান। সাধারণত মনে করা হয়, যাদের পরিবারের কেউ ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত, তারা প্রতিযোগিতায় অনেকটা এগিয়ে থাকেন। কিন্তু জ্যামি লিভার সেই ধারণাকেই ভেঙে দিলেন, দেখালেন সব ‘স্টারকিড’-এর ভাগ্য যে সোনালী হয় না।
দূর থেকে যেই বলিউডকে চকচকে ও স্বপ্নের মতো লাগে, আদতে কি তা ততটা সুন্দর? জ্যামি এই ভুল ভেঙে দিয়ে জানালেন, কীভাবে তিনি স্বজনপোষণের শিকার হচ্ছেন এবং নিয়মিত অডিশন দেওয়ার পরেও প্রত্যাখ্যানের মুখোমুখি হচ্ছেন।
কেন জ্যামি প্রত্যাখ্যানের শিকার হচ্ছেন? এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমি আজকাল এটি খুব কাছ থেকে দেখতে পাচ্ছি। স্বজনপোষণের সন্তান এবং একজন অভিনেতার সন্তান হওয়ার মধ্যে বিশাল পার্থক্য রয়েছে। আমার মনে হয়, আমি একজন অভিনেতার মেয়ে। আমিও এটি অনুভব করি। আমার জার্নি আমার বাবার থেকে অনেক আলাদা। স্বজনপোষণের সন্তানদের জার্নি আলাদা ধরনের। তাদের ক্ষমতা এবং সুযোগ আছে। নিজেদের প্রতিভা প্রমাণ করতে না পারলেও তারা সুযোগ পায়।”
তিনি আরও যোগ করেন, “এই একটা জিনিস আমি ইন্ডাস্ট্রিতে খুব কাছ থেকে জানতে এবং চিনতে পেরেছি। কিন্তু আমার জার্নি অন্যদের থেকে অনেক আলাদা। আমি এই ইন্ডাস্ট্রির সন্তান, কিন্তু পার্থক্যটা আমি বুঝতে পারি। আমার বাবা আমাকে একটি পরামর্শ দিয়েছিলেন। অনেক মানুষই রুপোলি থালায় সাজানো জিনিস পায়। কোনো কঠোর পরিশ্রম ছাড়াই, তাদের ছবিতে মুখ্য চরিত্রে কাজ করার সুযোগ অফার দেওয়া হয়। কিন্তু আমাদের মতো কিছু মানুষ ইন্ডাস্ট্রিতে আছেন, যারা অসংখ্য অডিশন দিয়ে এবং এখনও প্রত্যাখ্যানের মুখোমুখি হয়েও এগিয়ে চলেছেন। যদি রুপোর থালায় কিছু পরিবেশন করা হয়, তাহলে আপনাকে আপনার সর্বস্ব দিতে হবে। যতটা সম্ভব প্রশিক্ষণ নিয়ে, নিজের সেরাটা দিতে হবে। আমার বাবা আমাকে বলেছিলেন যে, যদি ইন্ডাস্ট্রিতে ঢুকতে চাও, তাহলে সেরা হও এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে চিন্তা করবে না।”
উল্লেখ্য, জ্যামি লিভার হিন্দি ছবি ও টেলিভিশনে কাজ করেন। তিনি লন্ডন থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং একজন স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান হিসেবেও পরিচিত। তিনি ‘কিস কিসকো পেয়ার করু’, ‘হাউজফুল ৪’, ‘ভূত পুলিশ’-এর মতো বেশ কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করেছেন এবং ‘পপ কৌন’ ওয়েব সিরিজেও তাকে দেখা গেছে। জ্যামির এই খোলামেলা মন্তব্য বলিউডের ভেতরের বাস্তবতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।