স্টেশনে বা ট্রেনের মধ্যে রিলস বানালেই এবার জেল, দিতে হবে ফাইনও! কড়া পদক্ষেপ রেলওয়ের

রিলস তৈরির উন্মাদনা বর্তমানে যেন এক নেশায় পরিণত হয়েছে। ছোট থেকে বড়, সকলেই এই ডিজিটাল ট্রেন্ডের অংশ হতে ব্যস্ত। তবে এই উন্মাদনার ফলে প্রায়শই মানুষ নিজের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলতেও পিছপা হচ্ছেন না। রেল স্টেশন, এমনকি চলন্ত ট্রেনের ভিতরে বা রেললাইনে নেমেও রিলস বানানোর ঘটনা ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছিল। এই প্রবণতা বন্ধ করতে এবার কঠোর পদক্ষেপ নিল ভারতীয় রেলওয়ে।

রেলওয়ে বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখন থেকে রেল স্টেশন, রেললাইন এবং ট্রেনের কোচে বিপজ্জনকভাবে রিলস বা ভিডিও তৈরি করলে ন্যূনতম এক হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। এছাড়াও, চলন্ত ট্রেন থেকে লাফ দেওয়া বা এই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ ভিডিও তৈরি করলে সরাসরি গ্রেফতারের নির্দেশও জারি করা হয়েছে।

এই কঠোর পদক্ষেপের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে কিছু মর্মান্তিক ঘটনা। কয়েক মাস আগে চেন্নাইয়ের কাছে রিলস বানাতে গিয়ে এক ১৫ বছর বয়সী ছাত্রের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে রেল স্টেশনগুলিতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের দাবি ওঠে। সেই দাবির প্রেক্ষিতেই রেলওয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতোমধ্যে তামিলনাড়ুতে রেল স্টেশন এবং ট্রেনে রিলস তৈরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং এই নিয়ম ভাঙলে ন্যূনতম ১০০০ টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েছে।

রেলওয়ে বোর্ডের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জনসমাগম স্থলে রিলস তৈরির প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে রেল স্টেশন, রেললাইন এবং ট্রেনের কোচে বিপজ্জনকভাবে রিলস তৈরি জনপ্রিয় হওয়ায় মানুষ এর বিপদ না বুঝেই ঝুঁকিপূর্ণ ভিডিও রেকর্ড করছে।

সাধারণত রেলওয়ে স্টেশনগুলিতে ভিডিও রেকর্ড করা নিষিদ্ধ হলেও, রিলসের উন্মাদনার কারণে অনেকেই এই নিয়ম লঙ্ঘন করে ভিডিও তৈরি করছেন। তাই সুরক্ষার স্বার্থে রেল স্টেশনগুলিতে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে পুলিশ, নিরাপত্তা কর্মী এবং রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজাররা কড়া নজরদারি চালাচ্ছেন। বিশেষ করে, চলন্ত ট্রেনে রিল তোলা, ট্রেন ট্র্যাকে আসার আগে ট্র্যাকে ঘনিষ্ঠ ভিডিও তৈরি করা, ট্র্যাকের উপর হাঁটা, লাইক পাওয়ার জন্য ট্র্যাকের উপর ঘুমানো এবং চলন্ত ট্রেন থেকে প্ল্যাটফর্মে লাফ দেওয়া ইত্যাদি ঝুঁকিপূর্ণ কার্যকলাপ রুখতে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, এর আগে মুম্বই, দিল্লি এবং উত্তর প্রদেশেও রেল স্টেশনগুলিতে রিলস তৈরি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এবার এই নিয়ম আরও কঠোর এবং দেশব্যাপী কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা রেলযাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।