কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ডের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ, সীমান্তে চলছে ব্যাপক গোলাগুলি

থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে সীমান্ত সংঘাতের পারদ ক্রমেই চড়ছে। দুই দেশের সেনাদের মধ্যে সাম্প্রতিক গোলাগুলির ঘটনায় পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। কূটনৈতিক সম্পর্ক তলানিতে ঠেকিয়ে থাইল্যান্ড কম্বোডিয়া থেকে তাদের রাষ্ট্রদূতকে ফিরিয়ে নিয়েছে এবং কম্বোডিয়ার রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের হুমকিও দিয়েছে। এই সংঘাত এখন কেবল সীমান্ত বিরোধ নয়, বরং পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক সংকটে পরিণত হয়েছে।
সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় তা মুয়েন থম খেমার মন্দিরের কাছে। উভয় পক্ষই প্রথমে গুলি চালানোর জন্য একে অপরকে দোষারোপ করছে। কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্র মালি সোচেতা দাবি করেছেন, থাই সেনারা প্রথম আক্রমণ করে। জবাবে, কম্বোডিয়ার সেনারা তাদের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার জন্য পাল্টা গুলি চালায়। অন্যদিকে, থাই সেনাবাহিনীর দাবি, কম্বোডিয়ার সেনারা প্রথমে গুলি চালিয়েছে এবং এতে তাদের ২ জন সেনা আহত হয়েছেন। থাইল্যান্ড আরও অভিযোগ করেছে যে, কম্বোডিয়ার ভূখণ্ডে তাদের একটি নজরদারি ড্রোন পাঠানো হয়েছিল।
এই সামরিক উত্তেজনার সঙ্গে তাল মিলিয়ে কূটনৈতিক সম্পর্কও ভেঙে পড়ছে। সংঘর্ষের ঠিক একদিন আগে থাইল্যান্ড কম্বোডিয়া থেকে তাদের রাষ্ট্রদূতকে ফিরিয়ে নিয়েছে। এর পাশাপাশি, সীমান্তে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে একজন থাই সেনা জওয়ান আহত হওয়ার ঘটনায় থাইল্যান্ড ক্ষুব্ধ হয়ে কম্বোডিয়ার রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করার কথা জানিয়েছে। এর আগে মে মাসেও দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষে একজন কম্বোডিয়ান সেনা নিহত হয়েছিলেন, যা দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের অবনতির কারণ হয়েছিল।
কম্বোডিয়ার নেতারা এই পরিস্থিতি সম্পর্কে জনগণকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছেন। প্রাক্তন নেতা হুন সেন তার ফেসবুকে পোস্টে দেশবাসীকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসাথে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত একটি কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “কম্বোডিয়া সবসময় শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে। কিন্তু যখন আমাদের ওপর অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করা হয়েছে, তখন অস্ত্র দিয়ে জবাব দেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না।” নেতাদের এই ধরনের কঠোর বার্তা দুই দেশের মধ্যেকার সম্পর্কের উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।