বাংলার কত পরিযায়ী শ্রমিক রয়েছে ভিন দেশে, পরিসংখ্যানের হিসেব অস্পষ্ট

পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের সংখ্যা নিয়ে সরকারিভাবে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। এই তথ্যহীনতা এখন তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যেখানে শাসক ও বিরোধীদের মধ্যে নানা অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের ঝড় বইছে। একদিকে যেমন কাজের খোঁজে বাংলার অসংখ্য মানুষ ভিন রাজ্য এবং বিদেশে পাড়ি দিচ্ছেন, তেমনি তাদের সঠিক সংখ্যা না থাকায় তৈরি হচ্ছে এক জটিল পরিস্থিতি।

বিভিন্ন মহল থেকে দাবি করা হচ্ছে যে, পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের আড়ালে বহু বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীও মিশে রয়েছে। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। তবে রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরেও একটি বড় প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে: বাংলা থেকে ঠিক কতজন মানুষ কাজের সন্ধানে ভিন দেশে বা ভিন রাজ্যে গেছেন?

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে সরকার স্বীকৃত ৩৬টি এজেন্সির মাধ্যমে ১৭টি দেশে কাজ করছেন ১ লক্ষ ৭৯ হাজার ৫৯৭ জন অদক্ষ শ্রমিক। তবে এর বাইরে ট্যুরিস্ট ভিসা বা অননুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমে যাওয়া শ্রমিকদের সংখ্যা অজানা।

সৌদি আরব থেকে মালয়েশিয়া: বাংলার শ্রমিকদের গন্তব্য

সরকার স্বীকৃত পথে বিদেশ পাড়ি দেওয়া শ্রমিকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যান সৌদি আরবে (প্রায় ৪৫ হাজার)। এর পরেই রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (১৭ হাজার) এবং কুয়েত ও কাতার (২০ হাজার)। এই শ্রমিকরা মূলত কৃষিকাজ, নির্মাণ, প্লাম্বিং, ওয়েল্ডিং এবং হোটেল-রেস্তোরাঁর মতো কাজে যুক্ত। সম্প্রতি মালয়েশিয়ায় পাম চাষের জন্য বাংলার কৃষি শ্রমিকদের চাহিদা বাড়ছে বলেও জানা গেছে।

প্রতারণার শিকার অসংখ্য শ্রমিক

আক্ষেপের বিষয় হলো, সরকার স্বীকৃত এজেন্সি ছাড়া আরও বহু ভুয়া এজেন্সি পশ্চিমবঙ্গে সক্রিয়, যারা এই শ্রমিকদের প্রতারিত করছে। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, মুর্শিদাবাদ জেলার সব চেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ সরকারি এজেন্সির পরিবর্তে এই ধরনের প্রতারণার শিকার হয়েছেন। গত পাঁচ বছরে মুর্শিদাবাদ থেকে ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ সরকারি এজেন্সির মাধ্যমে ইসিআর-দেশগুলিতে গেছেন। এরপর রয়েছে নদীয়া, কলকাতা, দক্ষিণ ও উত্তর ২৪ পরগনার মতো জেলাগুলো।

এই পুরো চিত্রটিই ইঙ্গিত দেয় যে, বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের জীবন শুধু অর্থনৈতিক সংগ্রামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা রাজনৈতিক বিতর্ক এবং তথ্যের অন্ধকারেও আচ্ছন্ন।