ফ্রিজে রাখা মাংস খেতেই মৃত্যু এক সরকারি কর্মীর, আশঙ্কাজনক পরিবারের বাকিরাও!

বোনালু উৎসবের আনন্দে পরিবারের সবাই মিলে রান্নাবান্না ও খাওয়া-দাওয়া করেছিলেন। কিন্তু সেই খাবারই কাল হলো। পরদিন ফ্রিজে রাখা সেই বাসি খাবার খেয়ে এক সরকারি কর্মীর মৃত্যু হয়েছে এবং পরিবারের আরও আটজন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনাটি ঘটেছে তেলঙ্গানার বনস্থলীপুরমে। প্রাথমিক তদন্তে খাদ্যে বিষক্রিয়াকেই মৃত্যুর কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
বনস্থলীপুরম এলাকার বাসিন্দা শ্রীনিবাস যাদব, যিনি ফলকনুমা রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন ডিপোর একজন কন্ডাক্টর, গত রবিবার তাঁর পরিবারের সঙ্গে বোনালু উৎসব পালন করছিলেন। এই উপলক্ষ্যে তাঁদের বাড়িতে মুরগি ও খাসির মাংসের বিভিন্ন পদ রান্না করা হয়েছিল। পরদিন, অর্থাৎ সোমবার, পরিবারের নয়জন সদস্য ফ্রিজে রাখা সেই অবশিষ্ট খাবার বের করে খান।
খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁদের মধ্যে ডায়রিয়া, বমি ও পেটের যন্ত্রণার মতো লক্ষণ দেখা যায়। গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন শ্রীনিবাস যাদব, তাঁর ৩৮ বছর বয়সী স্ত্রী রাজিতা, তাঁদের দুই মেয়ে (১৭ ও ১৫ বছর বয়সী) এবং বৃদ্ধা মা। এছাড়া, সেদিন আমন্ত্রিত আরও কয়েকজন আত্মীয় এবং এক শিশুও ওই খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। দ্রুত তাঁদের সকলকে চিকিৎসার জন্য নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
চিকিৎসাধীন আরও আটজন
হাসপাতালে শ্রীনিবাস যাদবকে বাঁচানোর অনেক চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হন চিকিৎসকরা। তাঁর মৃত্যু হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে আরও তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং বাকিদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
পুলিশ ও স্বাস্থ্য বিভাগের সতর্কতা
বনস্থলীপুরম পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। এক দিন ফ্রিজে খাবার রেখে পরদিন খাওয়া অস্বাভাবিক নয়, তাই খাবারে বিষক্রিয়া বা পচন ধরলে তা কেন খাওয়ার সময় বোঝা গেল না, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। মৃত ব্যক্তির দেহের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
স্বাস্থ্য বিভাগের আধিকারিকরা এই ঘটনার পর জনসাধারণকে ফ্রিজে রাখা মাংস বা প্রাণিজ খাবার খাওয়ার সময় আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাঁদের মতে, ফ্রিজে রাখা খাবার ভালোভাবে গরম করে না খেলে খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। এই মর্মান্তিক ঘটনা উৎসবের আনন্দের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।