জালিয়াতির রমরমা! কাউন্সিলরের সই জাল করে ভুয়ো সার্টিফিকেট তৈরির কারখানার পর্দাফাঁস

জাল সার্টিফিকেট তৈরির এক বিশাল চক্রের পর্দাফাঁস করল পুলিশ। রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের সই জাল করে আয় (ইনকাম) শংসাপত্র, ব্লাড রিলেশন সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি তৈরির অভিযোগে প্রশান্ত নাথ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধৃত প্রশান্ত নাথ ঢালুয়া নবপল্লির বাসিন্দা এবং রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। অভিযোগ, সে সোনারপুর পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জয়ন্ত সেনগুপ্তর স্বাক্ষর জাল করে দেদার সরকারি নথি তৈরি করছিল। শুধু তাই নয়, তৈরি করা এসব ভুয়ো নথিতে কাউন্সিলরের নাম ও জাল সই ব্যবহার করে তা কেবল ৩ নম্বর ওয়ার্ডেই নয়, ৯, ১২, এমনকি ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডেও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, প্রতিটি ভুয়ো নথির সিরিয়াল নম্বরও ছিল একই। এর থেকে স্পষ্ট যে, একটি সুপরিকল্পিত চক্র দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এই জালিয়াতি চালিয়ে যাচ্ছিল। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত প্রশান্ত নাথ আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ নথিপত্র তৈরির কাজ করত, কিন্তু আড়ালে সে একটি ‘জাল সার্টিফিকেট তৈরির কারখানা’ গড়ে তুলেছিল। এই কারখানা থেকে একের পর এক নকল কাগজ তৈরি করা হত, যার ভিত্তিতে রেশন কার্ড, কাস্ট সার্টিফিকেট-সহ একাধিক সরকারি পরিচয়পত্র বানানো হচ্ছিল।

পুলিশ এখন এই জালিয়াতি চক্রের গভীরে প্রবেশ করতে তৎপর। তদন্ত করে দেখা হচ্ছে, এই চক্রে আর কারা জড়িত। কোথা থেকে আসত এই জাল ফর্ম, নকল সিল এবং এই জালিয়াতির মূল পাণ্ডা কে, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। অভিযুক্তকে গ্রেফতারের পর এই চক্রের আরও তথ্য সামনে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই ঘটনা সরকারি নথিপত্রের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।