বাংলার মধ্যবিত্তের উপর আরও এক চরম আঘাত হানল সোনার বাজার! দাম শুনলে চোখ কপালে উঠবে

এবার বাংলার মধ্যবিত্তের উপর আরও এক চরম আঘাত হানল সোনার বাজার। আজ, ২৪ জুলাই, বুধবার, ২৪ ক্যারাট খাঁটি সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১ লাখ টাকা ছুঁয়ে ফেলেছে, যা এক নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। এর ফলে প্রতি গ্রাম খাঁটি সোনার দাম এখন ১০ হাজার টাকা। এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছে।
রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি
কয়েক মাস আগেই রুপোর দাম প্রতি কেজিতে ১ লক্ষ টাকার গণ্ডি পেরিয়ে গিয়েছিল। এবার সেই একই পথে হেঁটে সোনার দামও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। গতকাল, অর্থাৎ ২৩ জুলাইয়ের তুলনায় আজ প্রতি ১০ গ্রামে সোনার দাম বেড়েছে ১ হাজার টাকা, যা দৈনিক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বেশ বড়সড় পরিবর্তন। এই বৃদ্ধির ফলে ২৪ ক্যারাট সোনার দাম ১ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। শুধু খাঁটি সোনাই নয়, ২২ ক্যারাট এবং ১৮ ক্যারাট সোনার দামও এখন ১ লাখের কাছাকাছি ঘোরাফেরা করছে।
রুপোর বাজারও উত্তাল
সোনার পাশাপাশি রুপোর বাজারেও মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত। আজ রুপোর দাম কেজিতে প্রায় ৩০০ টাকা বেড়েছে। এই ধারাহিক মূল্যবৃদ্ধি ক্রেতাদের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দ্বিধায় ফেলে দিচ্ছে।
বিনিয়োগকারীদের জন্য সুবর্ণ সুযোগ
বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা সোনায় বিনিয়োগ করেছেন, তাদের জন্য এটি লাভের সময়। সোনার দাম বাড়ায় বিনিয়োগকারীরা লাভবান হচ্ছেন। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য সোনা সবসময়ই একটি নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে যারা গয়না কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য পরিস্থিতি বেশ কঠিন। একদিকে দাম হু হু করে বাড়ছে, অন্যদিকে এই দাম আগামী দিনেও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কেন বাড়ছে সোনার দাম?
বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধি, ডলারের তুলনায় টাকার অবমূল্যায়ন, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বাজারে চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্যহীনতা—এই সব কিছু মিলিয়ে সোনার দাম বাড়ছে। ভারতে উৎসবের মরশুম এবং বিয়ের মরসুমের কারণে সোনার চাহিদা আরও বাড়ছে, যার ফলে বাজারে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।
ক্রেতাদের কী করা উচিত?
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, গয়না না হলেও যারা সেভিংস বা বিনিয়োগ হিসেবে সোনা কিনতে আগ্রহী, তাদের উচিত ধীরে-সুস্থে বাজারের পরিস্থিতি বিচার করে সিদ্ধান্ত নেওয়া। প্রতিদিন দামের ওঠানামা হচ্ছে, তাই এখন অপেক্ষা করা বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে। দাম কিছুটা স্থিতিশীল হলে তবেই কেনাকাটা করা লাভজনক হবে। এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি বাংলার সাধারণ মানুষের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।