“সবসময় সাড়া দিয়েছে”-মোদির সফরের আগে ভারতের প্রশংসা করলেন মালদ্বীপের প্রাক্তন মন্ত্রী

প্রায় এক বছর ধরে চলা কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর ভারত ও মালদ্বীপের সম্পর্ক অবশেষে স্বাভাবিক হতে চলেছে। গত বছর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লাক্ষাদ্বীপ সফর নিয়ে মালদ্বীপের মন্ত্রীদের বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল, তা ধীরে ধীরে প্রশমিত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে আগামী শুক্র ও শনিবার মোদির মালদ্বীপ সফরের ঠিক আগেই সে দেশের প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী এবং প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ভারতের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন, যা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মালদ্বীপের প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী আব্দুল্লা শাহিদ ভারতকে ‘ভরসার দেশ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, “যখনই আমরা আন্তর্জাতিক লাইনে ফোন করি, ভারতই প্রথমে সাড়া দেয়।” তার মতে, এর দুটি কারণ— প্রথমত, “ভারতীয়দের হৃদয় বড়, তাঁরা সবচেয়ে উদার।” দ্বিতীয়ত, ভৌগোলিকভাবে ভারতের খুব কাছে হওয়ায় জরুরি পরিস্থিতিতে ভারত কখনোই মালদ্বীপকে হতাশ করেনি। এই মন্তব্যকে দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলার প্রথম স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নাশিদের ‘চীনপন্থী’ অবস্থান নিয়ে খোঁচা

একই ধরনের মন্তব্য করেছেন মালদ্বীপের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট মহম্মদ নাশিদও। তিনি মালদ্বীপের অর্থনৈতিক সংকটের কথা তুলে ধরে বলেছেন, “যদি ভারত না থাকত, তাহলে আমরা ঋণ শোধ করতে পারতাম না।” বর্তমান সরকারের চীনমুখী নীতির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “অতীতের নির্বাচনি চক্র কখনও কখনও আমাদের চীনপন্থী অবস্থানে বাধ্য করেছে।” এই মন্তব্যকে মালদ্বীপের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মহম্মদ মুইজ্জুর প্রতি প্রচ্ছন্ন বার্তা বলেই মনে করা হচ্ছে। মুইজ্জু বরাবরই চীন ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এবং তার বিদেশনীতিতে দিল্লির চেয়ে বেইজিংকে বেশি প্রাধান্য দিতে দেখা গেছে।

মোদি-মুইজ্জুর বৈঠক ও ভবিষ্যৎ সম্পর্ক

এই সফরে প্রধানমন্ত্রী মোদি মালদ্বীপে ভারতের আর্থিক অনুদানে তৈরি হওয়া একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন এবং মালদ্বীপের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানেও যোগ দেবেন। তার সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো প্রেসিডেন্ট মুইজ্জুর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। এই বৈঠকে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে জাতীয় নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলি নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রাক্তন নেতাদের এই প্রশংসা মোদির সফরের আগে সম্পর্কের একটি ইতিবাচক আবহ তৈরি করেছে। যদিও মুইজ্জু সরকার তার বিদেশনীতিতে কতটা ভারসাম্য আনতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।