২৮টা বুলেটে ঝাঁঝরা হয়ে যায় গ্যাংস্টার চন্দনের দেহ, বিহার গুলি কান্ড নিয়ে যা জানালো পুলিশ

পাটনার পারস হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (ICU) ঢুকে দুষ্কৃতী চন্দন মিশ্রকে খুনের ঘটনাটি ছিল এক দুঃসাহসিক অপরাধ। সেই চাঞ্চল্যকর খুনের তদন্ত যত এগোচ্ছে, বিহার পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (STF) হাতে আসছে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য, যা একটি সুপরিকল্পিত অপরাধ চক্রের দিকে ইঙ্গিত করছে। এই হত্যাকাণ্ডের মূল মোটিভ এবং অপরাধীদের নেপথ্য কাহিনি শুনলে যে কেউ অবাক হবেন।
তদন্তে জানা গেছে, খুনের প্রধান অভিযুক্ত তৌসিফ রাজা ওরফে বাদশা প্রায় ২০ লক্ষ টাকা জুয়ায় হেরে সর্বস্বান্ত হয়েছিল। এই বিপুল পরিমাণ দেনা শোধ করতে মরিয়া হয়েই সে এক কুখ্যাত সুপারি কিলার হিসেবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তৌসিফ নিজেই এই তথ্য জানিয়েছে।
কিন্তু খুনের নেপথ্যে রয়েছে আরও বড় চক্র। এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিল পুরুলিয়া জেলে বন্দি থাকা কুখ্যাত অপরাধী শেরু। শেরু এই খুনের সুপারি দেয় তৌসিফের ভাই নিশুকে। নিশুকেও আর্থিক সংকটে পড়েছিল এবং তার হাজিপুরের হোটেলটি বিক্রির কথা ভাবছিল। এই পরিস্থিতিতে সে শেরুর সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং চন্দন মিশ্রকে খুনের দায়িত্ব নেয়। এরপরই নিশু তার ভাই তৌসিফ ও অন্য দুষ্কৃতীদের এই খুনের কাজে লাগানোর দায়িত্ব দেয়।
বিহার এসটিএফ জানিয়েছে, খুনের জন্য ১০টি আগ্নেয়াস্ত্র বক্সার থেকে এনেছিল বলবন্ত নামে এক দুষ্কৃতী। উল্লেখ্য, বলবন্ত ও অভিষেক নামে আরও এক দুষ্কৃতী পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। খুনের দিন, অর্থাৎ ১৭ই জুলাই, সকালে তৌসিফ, নিশু এবং তাদের সঙ্গীরা পাটনার সামনপুরাতে নিশুর বাড়িতে বসে মদ পান করে। এরপরই তারা চন্দনকে খুন করতে পারস হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
সিসিটিভি ফুটেজে পাঁচজন আততায়ীর ছবি ধরা পড়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, তৌসিফ হাসপাতালে প্রবেশের সময় কর্মীদের জানায় যে, চন্দন মিশ্র তার কাকা এবং তিনি অসুস্থ হয়ে আইসিইউ-র ২০৯ নম্বর কেবিনে ভর্তি। এভাবে মিথ্যা পরিচয়ে তারা সহজেই হাসপাতালে প্রবেশ করে।
তদন্তে উঠে আসা সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, খুনিরা চন্দন মিশ্রকে মোট ২৮টি গুলি করেছিল। উপর্যুপরি গুলি চালিয়ে তারা নিশ্চিত করে যে চন্দন যেন না বাঁচে। শুধু তাই নয়, খুনের সময় তৌসিফ তার মোবাইল ফোনে সেই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ধারণ করে। খুনের পর হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে তৌসিফ তার বোনের বাড়ি গয়ায় পালিয়ে যায় এবং সেখানে তার নিজের দুটি মোবাইল ও নিশুর একটি মোবাইল রেখে আসে। পুলিশ ওই তিনটি ফোনই বাজেয়াপ্ত করেছে এবং কল ডিটেলস রেকর্ড (CDR) খতিয়ে দেখছে। এই CDR থেকে খুনের আগে ও পরে কাদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ হয়েছিল, সেই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এই তথ্যগুলো মামলার তদন্তে নতুন গতি এনে দিয়েছে।