বৈদিক গণিত নিয়ে সংসদে প্রশ্ন শমীকের, জবাব দিলেন সুকান্ত মজুমদার

প্রাচীন ভারতের সমৃদ্ধ জ্ঞানচর্চার ধারাকে আধুনিক শিক্ষার মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনতে সক্রিয় হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। বৈদিক গণিতকে প্রাতিষ্ঠানিক ও বৈজ্ঞানিক রূপ দিয়ে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করার এই পরিকল্পনা সম্প্রতি রাজ্যসভায় বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বিজেপি সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষা মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার সরকারের অবস্থান ও পদক্ষেপের খতিয়ান দেন।
জাতীয় শিক্ষানীতি ও ‘ভারতীয় জ্ঞানতন্ত্র’ প্রকল্প
শিক্ষামন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার জানান, জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর অনুপ্রেরণায় শিক্ষা মন্ত্রক একটি বড় উদ্যোগ নিয়েছে। ‘ভারতীয় জ্ঞানতন্ত্র’ নামক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের মাধ্যমে প্রাচীন ভারতীয় গণিত, যার মধ্যে বৈদিক গণিত অন্যতম, সে বিষয়ে গবেষণা ও অ্যাকাডেমিক উদ্যোগকে সক্রিয়ভাবে উৎসাহিত করা হচ্ছে। মন্ত্রক বিশ্বাস করে, এই পদক্ষেপ ভারতের নিজস্ব জ্ঞানভান্ডারকে পুনরুদ্ধার ও সুসংহত করতে সাহায্য করবে।
গবেষণা ও পাঠ্যক্রমের উদ্যোগ
এই প্রকল্পের আওতায় দেশজুড়ে বেশ কিছু গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো দেবী অহল্যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জৈন গণিত কেন্দ্র’ এবং দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘প্রাচীন ভারতীয় গণিত ও জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’। গত তিন বছরে এই ধরনের উদ্যোগে ২.৬১ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া, পাঁচটি বড় গবেষণামূলক প্রকল্পকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে সূর্যসিদ্ধান্ত ও অন্যান্য প্রাচীন গ্রন্থের তুলনামূলক আলোচনা এবং অনুবাদও রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ইতিমধ্যে ‘ভারতীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিভিত্তিক পাঠ্যক্রম’ চালু করার জন্য নির্দেশিকা জারি করেছে। এই নির্দেশিকার অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলির মধ্যে বৈদিক গণিত, যোগ, আয়ুর্বেদ, সংস্কৃত, ভারতীয় ভাষা, সঙ্গীত ও নৃত্যের মতো বিষয়গুলি রয়েছে।
যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হয়েছে বৈদিক গণিত
সুকান্ত মজুমদারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইউজিসির নির্দেশিকার ভিত্তিতে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়, বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়, পাঞ্জাব, গাড়োয়াল ও হিমাচল প্রদেশের কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইতিমধ্যেই বৈদিক গণিত বিষয়ক পাঠক্রম শুরু হয়েছে। এছাড়া, এলাহাবাদের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ইনফরমেশন টেকনোলজি এবং হরিয়ানা ও তামিলনাড়ুর কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে এটি ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে পড়ানো হচ্ছে।
অমীমাংসিত কিছু প্রশ্ন
যদিও সরকারের এই পদক্ষেপ প্রশংসিত হচ্ছে, তবুও কিছু প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়। সংসদে বৈদিক গণিত নিয়ে গবেষণায় যুক্ত গবেষকদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা সরকার জানাতে পারেনি। আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ‘সফট পাওয়ার’ হিসেবে এটি কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। এছাড়া, বৈদিক গণিতের জন্য একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠনের বিষয়েও সরকার কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা জানায়নি। তবে, প্রাচীন জ্ঞানের ধারাকে আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করার এই প্রচেষ্টা যে একটি বড় পদক্ষেপ, তা স্পষ্ট।