বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের ‘আটক’ বিতর্ক! ওড়িশা সরকারকে হলফনামা তলব হাইকোর্টের

ওড়িশায় বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলাদেশি সন্দেহে ‘গ্রেফতার’ বা ‘আটকের’ অভিযোগ ঘিরে কলকাতা হাইকোর্টে জমে উঠেছে আইনি তরজা। বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ আজ (বুধবার) ওড়িশা সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে, আগামী ২৯শে আগস্টের মধ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য হলফনামা আকারে আদালতে জমা দিতে হবে। বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের ঠিক কী অবস্থায় রাখা হয়েছে – গ্রেফতার নাকি আটক – তা স্পষ্ট করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
আদালত সূত্রে খবর, বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণে পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলাদেশি সন্দেহে ওড়িশায় ‘আটকের’ অভিযোগে একটি মামলা কলকাতা হাইকোর্টে ওঠে। বুধবার এই মামলার শুনানিতে ওড়িশা সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, বাঙালি হলেই বা বাংলা ভাষায় কথা বললেই তাদের এদেশের নাগরিক নয় বলে গ্রেফতার করা হচ্ছে – এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ওড়িশা সরকারের অ্যাডভোকেট জেনারেল পি আচার্য আদালতে স্পষ্ট জানান, এমন কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।
ওড়িশার এজি বনাম কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়: যুক্তির শান
শুনানিতে রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে ওড়িশা সরকারের অ্যাডভোকেট জেনারেল পি আচার্য বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বাঙালিরা আমাদের ভাইয়ের মতো। তারা আমাদের প্রতিবেশী। তাই আমাদের বিরুদ্ধে এইসব অভিযোগ এনে বিভ্রান্ত করবেন না। আমাদের রাজ্যের প্রধান বিচারপতিও একজন পশ্চিমবঙ্গের মানুষ। এখানে বাঙালি না অবাঙালি, এটা বিষয় নয়। তারা এ দেশের নাগরিক কিনা, সেটাই যাচাই করা হচ্ছে।”
এর প্রত্যুত্তরে রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “কতজন তামিল, কতজন গুজরাটিকে গ্রেফতার করেছেন, তা জানান? শুধুমাত্র বাঙালিদেরই কেন বেছে বেছে যাচাই করা হচ্ছে?” কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যের পরই বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী ওড়িশা সরকারের এজির কাছে জানতে চান, “গ্রেফতার করা হয়েছে নাকি আটক করা হয়েছে, তাহলে তা আদালতকে জানাতে হবে।”
ওড়িশার এজি তখন আদালতে জানান, “কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। ফরেনার্স আইন অনুযায়ী, যাদের নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ হচ্ছে, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে সেই তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। এটা আইন অনুযায়ী একটি ভেরিফিকেশন শুধুমাত্র।”
এই মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য হয়েছে আগামী ২৯শে আগস্ট। ওই দিনই ওড়িশা সরকারকে বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের বিষয়ে ‘গ্রেফতার’ নাকি ‘আটক’ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য হলফনামা আকারে আদালতে জমা দিতে হবে। হাইকোর্টের এই নির্দেশ নিঃসন্দেহে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের সুরক্ষার বিষয়টি আবারও সামনে নিয়ে এল এবং ওড়িশা সরকারের উপর তথ্য প্রকাশের চাপ বাড়ালো।