দিঘার সমুদ্রে নেমে বাঁধলো বিপত্তি, স্রোতে তলিয়ে গেলেন মামা-ভাগ্নে

দিঘায় সমুদ্রে স্নান করতে নেমে মামা-ভাগ্নে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এক যুবকের খোঁজ এখনো মেলেনি। সোমবার দুপুরের এই মর্মান্তিক ঘটনায় মামা তপন সানাকে (৪৮) উদ্ধার করা গেলেও, ভাগ্নে স্বপন মালিক (২৫) এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তপন সানা বর্তমানে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। খবর পেয়েই দিঘা মোহনা কোস্টাল থানার পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিখোঁজ যুবকের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজ যুবক স্বপন মালিক হুগলির তারকেশ্বরের বাসিন্দা এবং পেশায় একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মী। দিন কয়েক আগে কর্মসূত্রে তিনি দিঘা গিয়েছিলেন এবং দিঘা মোহনা থানার উত্তর খাদালগোবরা এলাকায় তাঁর মামার বাড়িতে উঠেছিলেন। সোমবার মামা-ভাগ্নে দু’জন মিলে পুরনো দিঘার সি-হক ঘোলা সমুদ্র সৈকতে স্নান করতে নেমেছিলেন, তখনই তারা জলের টানে তলিয়ে যান।
সমুদ্র সৈকতে উপস্থিত নুলিয়ারাই তৎপরতার সঙ্গে তপন সানাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন। বর্তমানে তিনি দিঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে। তবে ঘটনার পর থেকেই স্বপন মালিক নিখোঁজ রয়েছেন। তার খোঁজে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় তল্লাশি শুরু করেছে উদ্ধারকারী দল। সোমবারের পর মঙ্গলবার সকাল থেকেও এই তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দিঘা মোহনা থানার ওসি অরুণকুমার পতি বলেন, “নিখোঁজ পর্যটকের খোঁজে তল্লাশি চলছে। তবে এখনও তাঁর সন্ধান মেলেনি।”
উল্লেখ্য, দিঘার সমুদ্রে সারা বছরই কমবেশি পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকে। সম্প্রতি নতুন আকর্ষণ হিসেবে জগন্নাথ ধাম তৈরি হওয়ায় দিঘায় পর্যটকদের আনাগোনা আরও বেড়েছে। এর ফলে যেমন দিঘার পর্যটন শিল্পে সমৃদ্ধি আসছে, তেমনই নিত্য নতুন বিপত্তির খবরও সামনে আসছে। সমুদ্রে স্নানের সময় নিরাপত্তা বিধি এবং উদ্ধার ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কর্তৃপক্ষের উচিত পর্যটকদের সুরক্ষায় আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা, যাতে ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক ঘটনা এড়ানো যায়।