দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের পর এ বার আরও বড় উপহার পাবে বাংলা! একুশের মঞ্চে দাঁড়িয়ে ঘোষণা মমতার

একুশে জুলাইয়ের ঐতিহ্যবাহী শহিদ দিবসের সমাবেশ থেকে কেন্দ্রকে একের পর এক তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুলিশ প্রশাসন থেকে শুরু করে ধর্মীয় রাজনীতি, ডিটেনশন ক্যাম্প ও রোহিঙ্গা ইস্যু পর্যন্ত নানা বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকারকে আক্রমণ করেন তৃণমূল নেত্রী।

পুলিশি হস্তক্ষেপ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রশ্ন:
পুলিশের বিরুদ্ধে অন্যায্য সমালোচনার জবাব দিয়ে তিনি বলেন, “পুলিশকেও গালাগালি দেওয়া হচ্ছে। লজ্জা করে না আপনাদের? আমাদের এখানে স্টেট ফোর্স রয়েছে। সেন্ট্রাল ফোর্স চাই কেন? বর্ডারে পাঠান।” তিনি জানান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক রাজ্যে সেন্ট্রাল ফোর্স মোতায়েনের জন্য নোডাল অফিসারের নম্বর চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। তার জবাবে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কতজনকে জেলে পুরতে পারবেন? বলুন তো? ড্যামেজ ম্যানেজ করা যায় না।”

ধর্মীয় রাজনীতিতে আক্রমণ:
এই দিনই ধর্মীয় রাজনীতি নিয়েও কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ শানান মমতা। বলেন, “হঠাৎ মা কালী, মা দুর্গার নাম মনে পড়ছে! রাজবংশীদের চিঠি পাঠিয়ে বিভাজনের খেলা খেলছে কেন্দ্র।”

রোহিঙ্গা পরিসংখ্যান ও বিজেপির ‘মিথ্যাচার’ ফাঁস:
রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে বিজেপির ‘মিথ্যাচার’ ফাঁস করে মমতা বলেন, “মোট রোহিঙ্গা কত? ভারতে কত? আমার কাছে লিস্ট আছে, আমি জানি না বাংলাদেশে কত লোককে ফেরত পাঠিয়েছেন। সারা পৃথিবীতে রোহিঙ্গা সংখ্যা কত? ইউনাইটেড নেশন বলছিল দশ লক্ষ। সেটা বেড়ে সর্বোচ্চ ১৩-১৪ লাখ হবে। আপনি কীভাবে বলছেন সতেরো লক্ষ?”

ডিটেনশন ক্যাম্প ও বাঙালি নির্যাতনের অভিযোগ:
মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিজেপি সরকার এমন একটি সার্কুলার পাঠিয়েছে যা শুধু বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোতে কার্যকর হয়েছে। তিনি বলেন, “এই সার্কুলার আমাদের রাজ্যে পাঠানো হয়নি। ২ মে তা পাঠানো হয় বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিতে। যাতে সন্দেহ হলেই এক মাস ডিটেনশন ক্যাম্পে আটকে রাখা যায়।” তাঁর বক্তব্য, এই নীতির ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হাজারেরও বেশি বাঙালি আটক হয়েছেন, যা তিনি “রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র” বলেই ব্যাখ্যা করেন। ওড়িশা, দিল্লিতে বাঙালিদের ওপর “অত্যাচার” নিয়েও অভিযোগ করেন মমতা।

বাংলা ভাষার উপর ‘অত্যাচার’র বিরুদ্ধে অভিযান: নতুন ভাষা আন্দোলনের ডাক:
বাংলা ভাষার উপর ‘অত্যাচার’র বিরুদ্ধে অভিযান ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বাংলা ভাষার উপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাব। প্রত্যেক শনি ও রবিবার প্রতিবাদ মিছিল করুন।” তিনি আগামি ২৭ জুলাই ‘নানুর দিবস’ থেকে প্রতিটি শনিবার এবং রবিবার রাজ্য জুড়ে প্রতিবাদ মিছিল ও জনসভার ডাক দিলেন, যা কার্যত এক নতুন ভাষা আন্দোলনের সূচনা।

নতুন ঘোষণায় চমক: ‘দুর্গাঙ্গন’
সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্য তুলে ধরার লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রীর নতুন ঘোষণা, জগন্নাথ মন্দিরের ধাঁচে গড়া হবে একটি ‘দুর্গাঙ্গন’। যা সারা বছর দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে। তাঁর কথায়, “জগন্নাথ মন্দির যেমন আছে, তেমনই দুর্গাঙ্গন গড়া হবে। সারা বছর মা দুর্গা দর্শন করতে পারবেন মানুষ।”

সব মিলিয়ে, ২১শে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অগ্নিগর্ভ ভাষণ একদিকে যেমন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তৃণমূলের অবস্থান আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে, তেমনই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলীয় কর্মীদের জন্য এক নতুন দিশা নির্দেশ করেছে।