‘বাংলায় পরিবর্তন আনতে গিয়ে দিল্লি পরিবর্তন হবে না তো?’ ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে মমতার পাল্টা জবাব

গত ১৮ই জুলাই দুর্গাপুরে সভা করতে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দাবি করেছিলেন, বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলেই ‘আসল পরিবর্তন’ আসবে এবং উন্নয়নের জোয়ার বইবে। দুর্নীতি থেকে শুরু করে শিল্পের অভাব— বিভিন্ন ইস্যুতে তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
আজ ২১শে জুলাইয়ের শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে নাম না করেই সেই আক্রমণের পাল্টা জবাব দিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধানমন্ত্রীকে প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করার অভিযোগে সরাসরি আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বলছে বাংলায় পরিবর্তন হলেই নাকি আসল উন্নয়ন হবে। দু’কোটি চাকরি দেবেন বলেছিলেন, ১৫ লক্ষ টাকা করে দেবেন বলেছিলেন, কালো টাকা ফেরাবেন বলেছিলেন, তার কী হলো? উল্টে একশো দিনের কাজ, বাংলার বাড়ি, গ্রামের রাস্তার কাজ বন্ধ করে দিলেন! মানুষকে জেলে ভরে দিচ্ছেন!”
বাংলা ভাষার উপর আক্রমণের অভিযোগ:
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেবল আর্থিক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ নয়, বাংলা ভাষার উপর আক্রমণের অভিযোগ তুলেও প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করেছেন। তিনি বলেন, “বাংলা ভাষা নিয়ে আপনার কী সমস্যা? বাংলা ভাষায় কথা বললে মনে হয় আপনি ভয় পাচ্ছেন!” তাঁর এই মন্তব্যে বিজেপির ভাষা-সংস্কৃতির রাজনীতি নিয়ে তৃণমূলের কড়া অবস্থান স্পষ্ট হলো।
‘২০২৬-এর পর দিল্লিতেই পরিবর্তন’:
এর পাশাপাশি, ‘পরিবর্তন’ নিয়ে পাল্টা বিজেপিকেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, “২০২৬-এর পর আমি দেখবো তোমরা কোথায় থাকো? বাংলায় পরিবর্তন করতে গিয়ে আবার দিল্লিতেই পরিবর্তন হয়ে যাবে না তো? আজকে তারই ভিত গড়া হলো। এবার দিল্লিতে হবে পরিবর্তন।” তাঁর এই মন্তব্য ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং তার পরবর্তী ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও রণকৌশল স্পষ্ট করে দিল।
একুশে জুলাইয়ের এই মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষণ যেন শুধুমাত্র রাজ্য রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ না থেকে, সরাসরি দিল্লির ক্ষমতার করিডোরে আঘাত হানার ইঙ্গিত দিল। বাংলার মাটি থেকে দেওয়া তাঁর এই বার্তা আগামী দিনগুলোতে জাতীয় রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।