২০২৬ ও দিল্লির লক্ষ্য স্থির মমতার! ‘এরপর দিল্লি থেকে সরাতে হবে’, ২১শে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে হুঙ্কার মমতার

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের শেষ ২১শে জুলাইয়ের সমাবেশ থেকে আগামী দিনের রাজনৈতিক রণকৌশল স্পষ্ট করে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ধর্মতলার মঞ্চ থেকে তিনি শুধু ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের লক্ষ্যই স্থির করেননি, দিল্লি দখলেরও বার্তা দিলেন।

শহিদ দিবসের দিন তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, “২০২৬-এ আরও বেশি আসনে জিততে হবে। তৃণমূলের দর্শন, বিজেপি বাম বিসর্জন।” এরপর তিনি আরও বড় লক্ষ্যের কথা বলেন, “এরপর দিল্লি থেকে সরাতে হবে। এই লড়াই তে চোর ডাকাত হয় না, কেউ কিছু করলে আমরা ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। আগে নিজেদের দিকে তাকান।”

কেন্দ্রীয় এজেন্সির অপব্যবহারের বিরুদ্ধে তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যদি এজেন্সির ব্যবহার করো। মনে রাখবেন জেলে থাকলে, বৃক্ষ হয়ে জন্মাব। দিল্লিতে শাখা প্রশাখা যাবে।”

২১শে জুলাইয়ের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
প্রসঙ্গত, ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই ছিল এক ঐতিহাসিক দিন। তখনও তৃণমূলের জন্ম হয়নি। যুব কংগ্রেসের ডাকে মহাকরণ অভিযানের নেতৃত্ব ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের ক্ষমতায় তখন বাম সরকার, মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু। সিপিএমের বিরুদ্ধে ভোটে রিগিংয়ের অভিযোগ তুলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার জন্য সচিত্র ভোটার পরিচয়পত্রের দাবিতে মহাকরণ অভিযান করে যুব কংগ্রেস। রাজ্যের প্রধান প্রশাসনিক সচিবালয়ের উদ্দেশে ওই অভিযান রুখতে কলকাতা পুলিশ তৎপর হয়। বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে ব্যারিকেড তৈরি হয়। ক্রমশ পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয় এবং গুলি চলে। নিহত হন ১৩ জন যুব কংগ্রেসের নেতা-কর্মী। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে উত্তাল হয়ে ওঠে রাজ্য রাজনীতি। কার নির্দেশে পুলিশ গুলি চালাল, সেই প্রশ্নের জবাব মেলেনি। ওই সময় রাজ্যের পুলিশমন্ত্রী ছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। পরবর্তীকালে এই মামলায় বুদ্ধদেবকে সিবিআই ক্লিনচিট দেয়।

আজকের এই সমাবেশ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একদিকে যেমন দলের কর্মীদের মনোবল বাড়িয়ে দিলেন, তেমনই ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং তার পরবর্তী দিল্লির লড়াইয়ের জন্য স্পষ্ট বার্তা দিলেন।